সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির সামনে মাথানত করল ভেনেজুয়েলা! প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারির পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই আমেরিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ডেলসি রড্রিগেজ (Delcy Rodriguez)। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে সুর বদলে আমেরিকার কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানালেন মাদুরোর ডেপুটি।
মার্কিন হামলা ও মাদুরোর গ্রেপ্তারির পর ভেনেজুয়েলার তরফে জানানো হয়েছিল, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা কোনওভাবেই নেবে না ভেনেজুয়েলা। ডেলসি জানান, “আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না। আমরা ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।” শুধু তাই নয়, মাদুরোর গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বার্তা দেন ডেলসি। এই ঘটনায় পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানান, ''যদি রড্রিগেস মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনওরকম পদক্ষেপ করেন, তা হলে তাঁকে মাদুরোর থেকেও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।" এমনকি, ভেনেজুয়েলায় মাটিতে দ্বিতীয় বার সামরিক আক্রমণেরও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। মার্কিন হুঁশিয়ারির পরই সুরবদল ঘটে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই সোশাল মিডিয়ায় আমেরিকার উদ্দেশে বার্তা দেন ডেলসি। যেখানে গুরুতর এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে তিনি লেখেন, 'আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ এবং শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক তৈরি করাই আমাদের অগ্রাধিকার। পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আমেরিকার সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।'
উল্লেখ্য, শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা ও মাদুরো অপহরণের পর ডেলসিকে নিয়ে ইতিবাচক বার্তাই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। যদিও ডেলসি একেবারেই সে পথে হাঁটেননি। প্রথমে ট্রাম্পের কাছে মাদুরোর জীবিত থাকার প্রমাণ চান তিনি। এরপর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবিতে সরব হন। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলার একটাই প্রেসিডেন্ট, তিনি মাদুরো। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ট্রাম্পের কোপে পড়ে এবার সে সুর দ্রুত বদলে নিলেন ডেলসি।
