shono
Advertisement
US-Greenland

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চড়ছে পারদ, 'ট্রাম্পের সেনা হামলা করলে পালটা গুলি চালাব', হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
Published By: Saurav NandiPosted: 01:18 PM Jan 09, 2026Updated: 03:25 PM Jan 09, 2026

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহিনী গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে ডেনমার্কও চুপ করে বসে থাকবে না। প্রতিরক্ষার স্বার্থে আগে গুলি করা হবে। তার পর কথা! মার্কিন প্রেসিডেন্টের লাগাতার হুমকির মুখে পালটা হুঁশিয়ারি দিল ডেনমার্ক।

Advertisement

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড (US-Greenland) দখল প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। সেই মতো বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটিকে কী ভাবে অধিগ্রহণ করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস। প্রয়োজনে সেখানে সেনাও নামানো হতে পারে বলে বিবৃতি দিয়েছে তারা। পালটা জবাব দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের 'অভিভাবক' ডেনমার্কও। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-র। তার আগে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়ে দিল, ১৯৫২ সালের সামরিক আইন মেনে গ্রিনল্যান্ডেরও প্রতিরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই কোনও দেশ আক্রমণ করলে ডেনমার্কের সেনা কারও আদেশের অপেক্ষা করবে না। তারা আগে গুলি চালাবে। তার পর জিজ্ঞাসাবাদ-আলোচনা।

আমেরিকার দাবি, মেরুপ্রদেশে চিন-রাশিয়ার প্রভাব ক্রমশই বাড়ছে। এতে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ দিকে, ডেনমার্ক আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। প্রতিরক্ষার স্বার্থেই তারা ন্যাটোয় নাম লিখিয়েছিল। কিন্তু অন্য কোনও বিদেশি শক্তির পরিবর্তে জোটের এক শরিকই যদি ‘প্রতিপক্ষ’ হয়ে ওঠে, সে ক্ষেত্রে ন্যাটোর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ দেখেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্ক সরকার। আমেরিকার সঙ্গেও ডেনমার্কের সম্পর্ক বরাবর ভালো। সে কথা স্মরণ করিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন বলেছেন, “আমেরিকার কাছে আমার আর্জি, ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।” একই সঙ্গে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “যে দেশ বা যে দেশের মানুষ বলছেন, আমরা বিক্রি হব না, তাঁদেরও হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখল করার কথা বলায় ফাঁপড়ে পড়েছে ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত ইউরোপের দেশগুলি। ন্যাটো যেহেতু আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই তারা ট্রাম্পের দাবিকে সমর্থন জানাবে না কি ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকের মত, রুশ হানা থেকে নিজেদের বাঁচাতে, প্রতিরক্ষার স্বার্থে ন্যাটোতে নাম লিখিয়েছিল ডেনমার্ক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া নয়, ডেনমার্কের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বন্ধু আমেরিকাই। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এ ভাবে চলতে থাকলে হয়তো ন্যাটো জোটই ভেঙে যাবে। এতে ইউরোপের স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বলেই আশঙ্কা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহিনী গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে ডেনমার্কও চুপ করে বসে থাকবে না।
  • প্রতিরক্ষার স্বার্থে আগে গুলি করা হবে। তার পর কথা!
  • মার্কিন প্রেসিডেন্টের লাগাতার হুমকির মুখে পালটা হুঁশিয়ারি দিল ডেনমার্ক।
Advertisement