নয়াদিল্লির একটি বিলাসবহুল বাসভবনে কড়া নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর সঙ্গে দেখা এসে এমনটাই জানালেন ব্রিটেনে আওয়ামি লিগের কয়েক জন নেতা। দিল্লি সফরের পর তাঁরা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-কে দলীয় নেত্রীর বর্তমান জীবনযাত্রা সম্পর্কেও জানিয়েছেন তাঁরা।
সপ্তাহখানেকের জন্য লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়েছিলেন আওয়মি লিগের (Awami League) পাঁচ নেতা। সেখানে গত ২১ জানুয়ারি তাঁরা হাসিনার (Sheikh Hasina) সঙ্গে দেখা করেন। প্রথম আলো-কে আওয়ামি লিগের নেতারা জানিয়েছেন, হাসিনা নিজে অনুমতি দিয়েছেন। তার পরেই তাঁদের ওই বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁরা পাঁচ ঘণ্টা ছিলেন। নিরাপত্তার কারণে মোবাইল বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত সামগ্রী নিয়ে তাঁদের হাসিনার বাসভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
হাসিনা সাক্ষাতের পর আওয়ামি লিগের নেতারা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, নয়াদিল্লির যে বাসভবনে হাসিনাকে রাখা হয়েছে, তা প্রাসাদের মতোই। নিরাপত্তাবলয়ও কয়েকটি স্তরে সাজানো। বাসভবনে বেশ কয়েকজন কর্মী রয়েছেন। তাঁরাই হাসিনাকে সাহায্য করেন। হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত একজন দেখা করতে পারেন। তিনি হলে তাঁর বোন শেখ রেহানা। লন্ডন থেকে প্রায়ই তিনি দিল্লিতে যাতায়াত করেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের আওয়ামি লিগের নেতারা। সূত্রের দাবি, হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন ব্রিটেন আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং ব্রিটেন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশান্তরী হন হাসিনা। চলে আসেন দিল্লিতে। তারপর সেখানেই গোপন আস্তানায় রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দিয়েছে। তার পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য বারবার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি।
