বাংলাদেশে (Bangladesh) সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের উপর নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনার বাড়বাড়ন্তে ফুঁসছে গোটা দেশ। শুধু শিশু ধর্ষণই নয়, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও ক্রমশ বেড়েছে। সর্বত্র দোষীদের কঠোর থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব সকলে। শৈশবের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতি ক্রমশ ব্যধিতে পরিণত হয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। বাংলাদেশের এই হাল দেখে উদ্বিগ্ন ইউনিসেফও এবার কড়া বার্তা দিয়েছে। ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিশু ধর্ষণ-নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
এদিকে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘আইন সংশোধন করে এই ধরনের পাষণ্ডদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সাতদিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসিকাঠে ঝোলাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পায়।'' শনিবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার তিন শিশুকে দেখতে গিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান মেয়র শাহদাত হোসেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘তিন-চার বছরের মাসুম বাচ্চাদের ফুসলিয়ে, চকোলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কেউ না কেউ নিয়ে যাচ্ছে। এটি একদিকে আমাদের সমাজের তীব্র নৈতিক অবক্ষয়, অন্যদিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০-৩০ টাকা দিয়ে ছোট শিশুদের একা একা দোকানে পাঠানো উচিত নয়। কারণ এই সুযোগেই ওঁত পেতে থাকা অপরাধীরা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।''
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু, দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শিশুদের প্রতি হিংসা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে জোরালো বিবৃতি দিয়েছে ইউনিসেফ। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশজুড়ে সম্প্রতি শিশুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শিশুকন্যা ও শিশুপুত্রদের উপর যৌন নির্যাতন, হত্যার ঘটনাও রয়েছে। অথচ শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল। এসব ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি ইউনিসেফ আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।'
