মাছ ধরতে পুকুরে ফেলা হয়েছিল জাল। কিন্তু রুই, কাতলার বদলে জালে ধরা পড়ল এক ব্যাগ! তা খুলতেই চক্ষুচড়কগাছ দশা! মিলল চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও থরে থরে সাজানো গুলি। পরে তল্লাশিতে মিলেছে আরও কার্তুজ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাবড়ায় (Habra)। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপির দাবি, ঘটনার নেপথ্য তৃণমূল। এলাকায় সন্ত্রাস চালাতেই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল, পরে বিপদ বুঝে তা পুকুরে ফেলা দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে হাবড়া থানার কুমড়া পঞ্চায়েতের পাঁচঘড়িয়ার সুব্রত বিশ্বাসের পুকুরে মাছ ধরতে নামেন কয়েকজন মৎস্যজীবী। জাল টানার সময় তাঁরা বোঝেন ভারী কিছু একটা আটকে গিয়েছে। জাল তুলতে দেখা যায় একটি কালো রঙের ব্যাগ। কৌতুহলের বশে পুকুরপাড়ে সেটি খুলতেই মেলে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং থরে থরে সাজানো গুলি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাবড়া থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর পুকুরে ফের তল্লাশি চালানো হয়। তাতে উদ্ধার হয় আরও একটি ব্যাগ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আরও চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, কারা সেগুলি পুকুরে ফেলে গিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির হাবড়া মণ্ডল ৩-এর সহ-সভাপতি সত্যজিৎ বিশ্বাসের বলেন, "সকালে প্রথমে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ৭২ রাউন্ড গুলি, পরে দুপুরে পুলিশের তল্লাশিতে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই ওই অস্ত্র ফেলে গিয়েছে।" তাঁর অভিযোগ, ৪ জুনের পর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ওই অস্ত্র ব্যবহার করে বিজেপি কর্মীদের খুনের পরিকল্পনা ছিল। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। বারাসত জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, "দুটি ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। কোথা থেকে ওই অস্ত্র এল এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।"
