Advertisement

ভোটের আগে জঙ্গলমহলকে চাঙ্গা করতে ঝোড়ো ইনিংস, ঢালাও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শাহের

05:02 PM Mar 25, 2021 |
Advertisement
Advertisement

সুনীপা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম: কপ্টারের যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ঝাড়গ্রামে গতবারের সভায় সশরীরে হাজির থাকতে পারেননি। ভারচুয়ালি সভা করতে হয়েছিল। এবার সেই খামতি কার্যত সুদে-আসলে মিটিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির তারকা প্রচারক অমিত শাহ (Amit Shah)। বৃহস্পতিবার বাঘমুণ্ডির সভা সেরে শাহ সোজা হাজির হয়েছিলেন ঝাড়গ্রামে (Jhargram)। ভরা মাঠে আদিবাসী উন্নয়নের ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। ইস্তাহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতিকে বারবার করে মনে করিয়ে দিলেন শাহ। কড়া আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বললেন, “দিদি যতদিন আছেন জঙ্গলমহলের উন্নয়ন হবে না। দিদি যত দিন আছে জঙ্গলমহল থেকে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু যাবে না। দিদির সঙ্গে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গুর বন্ধুত্ব আছে।”

Advertisement

প্রথম দফা নির্বাচনের (WB Assembly Election 2021) আগে আজই শেষ প্রচার। আর শেষলগ্নে জঙ্গলমহলে প্রচারে ঝড় তুলেছেন শাহ। শেষমুহূর্তের বাঘমুণ্ডি ও ঝাড়গ্রামের সভা থেকে জঙ্গমহলের উন্নয়নের ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিলেন শাহ। বললেন, আদিবাসী মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হবে। পুরুলিয়ার জলকষ্ট দূর করতে ব্যবস্থা হবে জলেরও। তৈরি হবে বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকী, জঙ্গলমহলের উন্নয়নের জন্য বোর্ড তৈরি করা হবে।

[আরও পড়ুন : ভোট শুরুর আগে আরও কড়া কমিশন, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় বদলি পুলিশ অফিসার]

তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূলকে তুলোধোনা করলেন শাহ। বললেন, “বাংলায় অনুপ্রবেশ, কাটমানি, সিন্ডিকেটের কালচার এনেছে তৃণমূল। গুণ্ডা দিয়ে মানুষকে ভয় দেখায় এই দল।” এর পরই শাহি আশ্বাস, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই কালচারের পরিবর্তন ঘটবে।” বাংলার মানুষকে নিশ্চিন্ত মনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর প্রতিশ্রুতি, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে গুণ্ডারা লুকিয়ে থাকার জায়গা পাবে না।” এর পরই তাঁর কটাক্ষ, “মোদিজি ১১৫টা স্কিম এনেছেন, তৃণমূল স্ক্যাম করেছে। দিদি যত দিন আছে জঙ্গলমহল থেকে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু যাবে না। দিদির সঙ্গে ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গুর বন্ধুত্ব আছে। আপনারা দিদিকে তাড়িয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন, দেড় বছরের মধ্যে গেরুয়া সরকার ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া তাড়িয়ে ছাড়বে।”

[আরও পড়ুন : স্বামীজি, চৈতন্যদেবরা গেরুয়া পরেই বাংলার মাথা উঁচু করেছিলেন, ফের হিন্দুত্বে শান যোগীর]

তবে আক্রমণ আর প্রতিশ্রুতির বন্যার মাঝেই শাহি ভাষণ আটকে থাকেনি। শেষবারের মতো চেষ্টা করেছেন দলের অন্দরের কোন্দল মেটাতেও। বাঘমুণ্ডিতে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত ছিল। কিন্তু আজসুকে আসনটি ছাড়ায় দলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এদিন সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতে গিয়ে বললেন, “আজসুর চিহ্নই আমাদের চিহ্ন। আমাদের প্রার্থীকে জেতান।” প্রথম দফা নির্বাচনের আগে শাহের এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ছবি: প্রতীম মৈত্র

Advertisement
Next