আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিপূরণে রাজ্য সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিলে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকেই সমর্থন করবে কুড়মি জনজাতিদের অধিকাংশ সংগঠন। শনিবার পুরুলিয়া শহরের মিউনিসিপ্যাল ম্যানেজড হাইস্কুলে কুড়মি জনজাতিদের চারটি সংগঠন বৈঠক করে আপাতত এই সিদ্ধান্তই নিয়েছে। তবে ওই বৈঠকে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ, পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ, কুড়মি সেনা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজ, নেগাচারি কুড়মি সমাজ ও জনজাতি কুড়মি সমাজ গরহাজির ছিল। ওই সভায় ডাক পায়নি আদিবাসী কুড়মি সমাজ। পরবর্তীকালে কুড়মি জনজাতিদের আরেকটি ছোট সংগঠন বাইসি কুটুমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই সংগঠন অবশ্য সেদিন হাজির ছিল।
তবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের কমলপুরে যে পরবর্তী বৈঠক আছে সেখানে ওই ছোট সংগঠন বাইসি কুটুম-সহ মোট সাতটি সংগঠন উপস্থিত থাকবে বলে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ ও পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের কর্তারা জানান। অর্থাৎ যে সংগঠনগুলি শনিবার অনুপস্থিত ছিল, তারাও পরবর্তী বৈঠকে থাকবে। গত শনিবারের প্রথম বৈঠকে একটি ১৫ জনের এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন হয়েছে। ওই কমিটিটি মোট ২১ জনের হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বাঁকুড়ার বৈঠকে আরও ৬ জনকে নেওয়া হবে। সেখান থেকে ১১ জনকে নিয়ে তৈরি হবে নির্ণায়ক বা কোর কমিটি।
গত শনিবারের প্রথম বৈঠকে একটি ১৫ জনের এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন হয়েছে। ওই কমিটিটি মোট ২১ জনের হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বাঁকুড়ার বৈঠকে আরও ৬ জনকে নেওয়া হবে। সেখান থেকে ১১ জনকে নিয়ে তৈরি হবে নির্ণায়ক বা কোর কমিটি।
এদিকে আগামী ৬-৭ ই ফেব্রুয়ারি পুরুলিয়ার কোটশিলার মুরগুমার কেনকেচে পাহাড়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। সেখান থেকে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, আগামী ভোট-সহ তাদের আদিবাসী তালিকাভুক্তির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? তবে দাবি পূরণের আন্দোলন নিয়ে কুড়মি জনজাতিদের সংগঠনগুলি যে আড়াআড়ি দু'ভাগ হয়ে গিয়েছে, তা একেবারে পরিষ্কার।
বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য রাখছেন সংগঠনের সদস্যরা, পুরুলিয়া শহরে। নিজস্ব ছবি
শনির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, তাদের দাবিগুলি পূরণে রাজ্য সরকার কেন কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন পাঠাচ্ছে না? সেই বৈঠক থেকে উঠে এসেছে অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ যেভাবে একেবারে প্রথম থেকে তৃণমূলের বিরোধিতা করে এসেছে সেই বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখেনি শাসকদল তৃণমূল। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলকে একটি ভোট নয় বলে প্রচার করেছিল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। সেইসঙ্গে গত ৮ অক্টোবর পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী সভা থেকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো তৃণমূলকে একটি ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন গ্রামীণ বৈঠকে তাদের সেই প্রচারও চলছে।
একটি সামাজিক সংগঠন হয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজের এভাবে সরকার বিরোধী মনোভাব কুড়মি জনজাতিদের বাকি সংগঠনগুলি মেনে নিতে পারছে না। বৈঠকে এই বিষয়টিও বারবারে উঠে এসেছে। পুরুলিয়া জেলা রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই কারণেই আদিবাসী কুড়মি সমাজ ছাড়া অন্যান্য কুড়মি সংগঠনগুলি এক ছাতার তলায় এসেছে। ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের আহ্বান, জাতিসত্তার আন্দোলনে তাদের দাবি পূরণে সকল কুড়মি জনজাতির মানুষজনকে এক হয়ে চলতে হবে। ওই সংগঠনের এক্সিকিউটিভ কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুজিত মাহাতো বলেন, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবি পূরণ হওয়া। রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা নয়। সেই কারণেই আমরা সকল কুড়মি জনজাতির মানুষকে এক ছাতার তলায় আসার কথা বারবার বলছি।"
পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু মাহাতো বলেন, "আমাদের দাবি পূরণে রাজ্য সরকার যদি আমাদের পাশে থাকে তাহলে আমরা আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে সমর্থন করব। যে রাজনৈতিক দল আমাদের পাশে থাকবে, আমরা তাদের কথা ভাবব। বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।"
কুড়মি জনজাতির সংগঠনগুলির বৈঠকের পর। রবিবার পুরুলিয়া শহরে। নিজস্ব ছবি।
ওই বৈঠকে থাকা পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু মাহাতো বলেন, "আমাদের দাবি পূরণে রাজ্য সরকার যদি আমাদের পাশে থাকে তাহলে আমরা আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে সমর্থন করব। যে রাজনৈতিক দল আমাদের পাশে থাকবে, আমরা তাদের কথা ভাবব। বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।" তাই দাবি পূরণে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজ্য সরকার কী ভূমিকা নেয়, তা দেখেই এই সংগঠনগুলি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কুড়মি জনজাতিদের আদিবাসী তালিকাভুক্তির বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য। সেই বিষয়গুলির কথাও ওই বৈঠকে উঠে আসে। উঠে আসে কুড়মি জনজাতিদের উন্নয়নে রাজ্যের পৃথক বোর্ডের কথাও।
