প্লেঅফের দৌড় থেকে অনেক আগেই ছিটকে গিয়েছে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এখন খেলছে স্রেফ মর্যাদা রক্ষার জন্য। অন্যদিকে কেকেআরের সামনে প্লেঅফের দরজা এখনও খোলা। পরপর দুই ম্যাচে জিতলেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে শেষ দল হিসাবে প্লেঅফে যাওয়া। সেই কাজটা বেশ অনেকটা সহজ হয়ে গেল বুধবারের ইডেনে, হার্দিক পাণ্ডিয়াদের বদান্যতায়। প্লে অফের অঙ্কটা আগের তুলনায় সহজ করে ফেলার সুবর্ণ সুযোগ আপাতত রয়েছে নাইটদের হাতে।
টসে জিতে এদিন প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। বৃষ্টিভেজা ইডেনে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সঠিক প্রমাণ করতে কার্যত উঠেপড়ে লাগেন কেকেআর বোলাররা। মূলত পেসাররা এদিন ছিলেন আগুনে ফর্মে। পাওয়ারপ্লেতে ক্যামেরন গ্রিন-সৌরভ দুবের জুটিতে মুম্বইয়ের ব্যাটিং লাইন আপ একেবারে নাকানিচোবানি খেয়েছে। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ৪৬ রান তুলতে পেরেছিল মুম্বই। কিন্তু তার মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব-সহ ৪ ব্যাটার।
মাঝের ৯ ওভারে উইকেট মাত্র একটা হারালেও সুনীল নারিন-বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে মুম্বই ব্যাটিং। মাত্র ৪৮ রান ওঠে সেসময়ে। অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টেনে তোলার একটা চেষ্টা করেন তিলক বর্মা। শেষলগ্নে মুম্বইয়ের উদ্ধারকর্তা হয়ে ওঠেন করবিন বশ। ১৮ বলে ৩২ রানের ক্যামিও আসে তাঁর ব্যাট থেকে। ওই ছোট্ট ইনিংসে ভর করেই দেড়শোর কাছে পৌঁছয় মুম্বই। শেষ পর্যন্ত আট উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রানে থামে তাদের ইনিংস।
কেকেআরের সামনে অতি সহজ টার্গেট। ম্যাচ জিততে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বুধবারের ইডেনে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারে নাইটরা। দুই পয়েন্ট পেয়ে তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসতে পারে। পঞ্চম স্থানটা আসতে পারে কেকেআরের দখলে। মুম্বইয়ে দেওয়া টার্গেট যদি ১৪ ওভারের মধ্যে তুলে ফেলে নাইটরা, তাহলে নেট রানরেট পজিটিভে চলে আসবে। সেক্ষেত্রে পঞ্চম স্থানে থাকা পাঞ্জাব কিংসকে সরিয়ে কেকেআর উঠে আসবে। প্লেঅফের দৌড়ে নেট রানরেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, যেহেতু একটাই জায়গা ফাঁকা। বুধবারের ম্যাচে রানরেট শুধরে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আছে। কেকেআর কি কাজে লাগাতে পারবে?
