ক্রিকেটগ্রহে বিরাট কোহলির একটা ডাকনাম আছে। 'চেজমাস্টার'। এমনিতেই সাদা বলের ফরম্যাটে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার। রান তাড়া করার সময় যেন পৌঁছে যান অন্য পর্যায়ে। তাই বুধবার রায়পুরে যখন ১৯২-৪ স্কোর করে কিছুটা স্বস্তিতে ছিল কেকেআর, অলক্ষ্যে হয়তো হেসেছিলেন ক্রিকেটদেবতা। আর হেসেছিলেন বিরাট নিজে। তিনি যখন প্রতিপক্ষ, স্কোরবোর্ডে তোলা কোনও রানই যে নিরাপদ নয়। সেটা আবারও প্রমাণ করলেন বিরাট। শুধু যে দলকে জেতালেন তাই নয়, একই সঙ্গে একের পর এক রেকর্ডেরও মালিক হলেন কিং কোহলি।
কেকেআরের বিরুদ্ধে যে ১০৫ রানের ইনিংস খেললেন কোহলি, সেটা টি-২০ ক্রিকেটে তাঁর দশম সেঞ্চুরি। যা আর কোনও ভারতীয়র নেই। সার্বিকভাবে গোটা বিশ্বে মোট চারজন ব্যাটার ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে চার ব তার বেশি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ক্রিস গেইলের টি-২০ সেঞ্চুরির সংখ্যা ২২। বাবর আজম (১৩) এবং ডেভিড ওয়ার্নারও (১০) দশের বেশি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। এছাড়া আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিকও এখন বিরাট। তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা ৯। এই তালিকায় দ্বিতীয় বাটলার। তাঁর সেঞ্চুরি সংখ্যা ৭।
বুধে নাইটদের সংহারক রূপে কোহলি। ফাইল ছবি।
টি-২০ ক্রিকেটে ১৪ হাজার রানের গণ্ডিও বুধবারই ছুঁয়েছেন বিরাট। সেটা দ্রুততম ব্যাটার হিসাবে। মাত্র ৪০৯ ইনিংস। ভারতীয়দের মধ্যে একমাত্র তাঁরই ১৪ হাজার রান রয়েছে এই ফরম্যাটে। কোহলি বুধবার যে ১০৫ করলেন, সেটাই রায়পুরে কোনও ব্যাটারের করা সর্বাধিক স্কোর। সঙ্গে রয়েছে আরেকটি মজার রেকর্ড। কোহলিই আইপিএলে প্রথম ব্যাটার যিনি পরপর দু'টি ম্যাচে শূন্য করার পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। এছাড়া আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের তালিকায় রোহিত শর্মা এবং মহেন্দ্র সিং ধোনিকে টপকেছেন বিরাট। কোহলি বুধবার খেললেন ২৭৯ তম ম্যাচ। বাকি দু'জন খেলেছেন ২৭৮টি করে ম্যাচ।
এদিন ম্যাচের শেষে কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে বলছিলেন, "এখানে শেষ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে আমাদের মনে হয়েছিল, ১৯২ স্কোরটা খারাপ না। আমাদের বোলিং ভালো হয়েছে। ফিল্ডিং ভালো হয়েছে। তবে বিরাট তফাত গড়ে দিল। পাড়িক্কলের সঙ্গে ওর জুটিটাই ম্যাচ ছিনিয়ে নিল আমাদের থেকে। জানা ছিল যে রান তাড়া করার সময় বিরাট অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।" তা কৃতিত্ব নেওয়ার মতো পারফরম্যান্সই তো করেছেন বিরাট।
