'ভুল' আউট হয়ে মেজাজ হারিয়েছিলেন। তার জেরে জরিমানা গুনতে হবে অঙ্গকৃষ রঘুবংশীকে (Angkrish Raghuvanshi Fined)। লখনউয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউট হন নাইট রাইডার্স তারকা। অনেকেরই মতে, তা অন্যায্য। আউট হওয়ার পর আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন কেকেআরের 'স্টার বয়'। এবার আর্থিক জরিমানাও দিতে হবে। পাশাপাশি অঙ্গকৃষের নামে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যুক্ত হয়েছে।
আইপিএল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অঙ্গকৃষকে ২.২ ধারার লেভেল ১ পর্যায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাধারণত, ম্যাচ চলাকালীন ক্রিকেট ও মাঠের কোনও সরঞ্জামের অপব্যবহার করলে এই ধারা প্রযুক্ত হয়। অঙ্গকৃষ নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর ম্যাচ ফি'র ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। আউট হওয়ার পর দেখা যায়, মাঠ থেকে বেরনোর সময় ব্যাট দিয়ে বাউন্ডারি লাইনে আঘাত করেন। পরে বিরক্ত হয়ে হেলমেট ছুড়ে মারেন।
ঠিক কী হয়েছিল? ম্যাচের পঞ্চম ওভারের ঘটনা। প্রিন্স যাদবের মিডল ও অফ স্টাম্পে ব্যাক অফ লেংথ বল মিড অনে ঠেলে রান নিতে ছুটেছিলেন তিনি। অর্ধেক পথ পেরিয়েও এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গী রাজি ক্যামেরন গ্রিন রাজি ছিলেন না। দ্রুত ঘুরে ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে ডাইভ দেন রঘুবংশী। সেই সময়ই মহম্মদ শামির থ্রো এসে লাগে তাঁর গায়ে। প্রথমে এলএসজি শিবির থেকে হালকা আবেদন উঠলেও বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। রিয়েল টাইমে মনে হয়েছিল, ব্যাটার লাইনে ফেরারই চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সিদ্ধান্তের জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন মাঠের আম্পায়াররা।
রিপ্লে খতিয়ে দেখে তৃতীয় আম্পায়াররা মনে করেন, রঘুবংশীর ‘টার্নিং রেডিয়াস’ স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি ঘুরেছিলেন। তাছাড়াও বলের দিকেও তাকিয়েছিলেন। যা তাঁর দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ডাইভ দেওয়ার সময় তিনি পিচের মাঝের অংশ চলে গিয়েছিলেন। সবদিক বিচার করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আউট দেওয়া হয়। যা ‘অবস্ট্রাটিং দ্য ফিল্ড’। অর্থাৎ ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার ‘অপরাধে’ আউট তিনি। এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন রঘুবংশী। প্রাক্তন ক্রিকেটার, সাধারণ দর্শক, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত এই আউটের সিদ্ধান্তকে 'ভুল' বলছেন।
