এই মুহূর্তে ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত নামটা সম্ভবত মুস্তাফিজুর রহমান। ৯.২ কোটি টাকায় বাংলাদেশের এই পেসারকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। যদিও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল খেলা হবে না তাঁর। এর পরেই সুর চড়া করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জানিয়ে দেয়, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না তারা। যা নিয়ে প্রত্যেক মুহূর্তে কিছু না কিছু আপডেট আসছে। জানা গিয়েছে, ইচ্ছা করলেই কেকেআরের বিরুদ্ধে আইনি পথে যেতে পারেন মুস্তাফিজুর। এই প্রসঙ্গে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি মহম্মদ মিঠুন মন্তব্যও করেছেন।
জানা গিয়েছে, আইপিএল থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর আইনি বা প্রশাসনিক লড়াইয়ের সুযোগ ছিল মুস্তাফিজুরের সামনে। তবে বাংলাদেশি পেসার নিজেই বিষয়টি নিয়ে এগোতে চাননি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'কোয়াব'-এর সভাপতি মিঠুনের কাছে জানতে চায়, কেকেআরের বিরুদ্ধে কি আইনি পথে হাঁটবেন মুস্তাফিজুর? জবাবে মিঠুন বলেন, "কেকেআরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কথা ভাবা হয়েছিল। তবে মুস্তাফিজুর রাজি ছিল না। ওর কথা মতোই আমরা সেই ভাবনা বাতিল করেছি।"
"কেকেআরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কথা ভাবা হয়েছিল।"
একই সঙ্গে তিনি এ কথাও জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের বিশ্ব সংগঠন 'ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন'ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে মুস্তাফিজুরকে সাহায্য করার জন্য তৈরি ছিল। মিঠুনের সংযোজন, "ডব্লিউসিএ চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপে রাজি ছিল। তবে মুস্তাফিজ সেসব চায়নি। ওর মতো একজন ক্রিকেটারের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতেই আমরা ভাবনা বাতিল করেছি।"
বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মালম্বী সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচারের কারণে কেকেআরের বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা নিয়ে সরব হয়েছিলেন দেশের বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ। তীব্র আক্রমণ করা হচ্ছিল কেকেআর মালিক শাহরুখ খানের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডকে। বলাবলি চলছিল, বাংলাদেশে যখন নির্বিচারে হিন্দু নিপীড়ন চলছে, তখন কোন যুক্তিতে মুস্তাফিজুরকে এখনও দলে রেখে দিয়েছে কেকেআর? কেন তাঁর সঙ্গে চুক্তি এখনই ছিন্ন করা হচ্ছে না? এই পরিস্থিতিতে শনিবার বিসিসিআইয়ের তরফে কেকেআর-কে বলা হয়, মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে। এরপর নিরাপত্তার দোহাই দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। সমস্যা সমাধানে বিসিবি'র সঙ্গে আইসিসি'র আলোচনাও চলছে। তবে জট এখনও ছাড়েনি।
