‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘সিজেপি’ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। এ দলের দৃশ্যমান নেতা নেই, অফিস নেই, সংগঠন নেই, কাঠামো নেই। সাইবার জগতে টিকে থাকা একটি আন্দোলনের তাত্ত্বিকভাবে ক্ষমতাসীন ব্যবস্থাকে বিচলিত করার কথা নয়। তাহলে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন শাসক গোষ্ঠী এতটা অস্বস্তিতে কেন? আদতে, এই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শুধু ক্ষোভ নয়, আরও গভীর কিছু প্রকাশ পায়– যা এক ধরনের প্যারানইয়া– আতঙ্ক। লিখলেন রাজদীপ সরদেশাই।
রাজনীতির অভিধানে ‘আরশোলা’ শব্দটির এমন জনপ্রিয় হয়ে ঢুকে পড়ার বহু আগে থেকেই এটি ছিল আমার ব্যক্তিগত শব্দভাণ্ডারের অংশ। সাংবাদিকতা বিষয়ক বক্তৃতায় প্রায়ই সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘আরশোলা’-র সঙ্গে তুলনা করতাম। কেন? কারণ, ধরুন ঈশ্বর না করুন, আগামী দিনে যদি একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায়, তবুও একমাত্র আরশোলারাই বেঁচে রইবে– অবশ্য মানবসভ্যতার ধ্বংসের ‘ব্রেকিং নিউজ’ পরিবেশন করার জন্য তখনও কাউকে জীবিত থাকতে হবে। ‘গ্রেট সারভাইভার’ থেকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হওয়া– আরশোলার দীর্ঘ যাত্রাপথ সত্যিই বিস্ময়কর।
তথাকথিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) নাটকীয় উত্থান এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রতিফলন, যার এমনই ভগ্নদশা যে, প্রতিবাদকারীরা শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের উপর নেমে আসা এহেন অন্ধকারকে ব্যক্ত করতে নর্দমা ও ড্রেনে টিকে থাকা এক কীটকে প্রতীক হিসাবে বেছে নিল। আমরা এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাস করছি, যেখানে শাসকেরা প্রায় সম্রাটের মতো আচরণে অভ্যস্ত– জবাবদিহিহীন ক্ষমতা-চর্চায় মত্ত। এদিকে বিরোধীরা এতটাই বিভক্ত এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীনতায় ভুগছে যে, তারা চেয়েও কার্যকর চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলতে পারছে না। সেই শূন্যস্থানেই সন্তর্পণে উঠে এসেছে আরশোলা– এমন এক প্রাণী, যাকে আমরা ঘৃণা ও ভয় করতেই অভ্যস্ত, অথচ অস্বীকার করার উপায় নেই অপার প্রাণশক্তি তাদের সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকিয়ে রাখে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) নাটকীয় উত্থান এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রতিফলন, যার এমনই ভগ্নদশা যে, প্রতিবাদকারীরা শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের উপর নেমে আসা এহেন অন্ধকারকে ব্যক্ত করতে নর্দমা ও ড্রেনে টিকে থাকা এক কীটকে প্রতীক হিসাবে বেছে নিল।
একটি ‘ভাইরাল’ ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন, যা শুরু হয় আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে থাকা তুলনামূলকভাবে অজ্ঞাত এক রাজনৈতিক কৌশলবিদের দ্বারা– হঠাৎ করেই ভারতের ক্ষমতার করিডোরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে– এই ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং এক শক্তিশালী ভারতীয় রাষ্ট্র কেনই বা প্রধান বিচারপতির অপ্রয়োজনীয় ‘আরশোলা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি ‘অনলাইন ট্রেন্ড’-কে ভয় পাবে? ভারতের বেকার যুবসমাজকে যেন উপহাস করে ফেলা সেই মন্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে আরও বড় কিছুর জন্ম দিল– ক্ষোভ, বিচ্ছিন্নতা এবং ব্যঙ্গের শক্তিতে চালিত এক ধরনের ডিজিটাল বিদ্রোহ। লক্ষ-লক্ষ তরুণ ভারতীয় যে ডিজিটাল আন্দোলনের শরিক। ‘সিজেপি’ আদৌ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। দলের কোনও নেতা নেই, অফিস নেই, সংগঠন নেই, কাঠামো নেই। ১৫০ কোটির তথাকথিত বৈচিত্রময় জনসংখ্যার দেশে শুধুমাত্র সাইবার জগতে টিকে থাকা একটি আন্দোলনের তাত্ত্বিকভাবে ক্ষমতাসীন ব্যবস্থাকে বিচলিত করার কথা নয়।
তাহলে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন শাসক গোষ্ঠী এতটা অস্বস্তিতে কেন? নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রীরা ‘সিজেপি’-কে ‘বিদেশি অর্থপুষ্ট বিদ্রোহ’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। সরকারের সমর্থকেরা মিথে্য দাবি করেছেন, এর বহু সমর্থক পাকিস্তানে বসবাস করে। তাদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ইতিমধে্যই ব্লক্ড বা স্ক্যানারের আওতায়। কেউ কেউ এটিকে ‘আম আদমি পার্টি’-র ‘প্রক্সি’ বলেও চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন, সময় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ‘আপ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আদতে, এই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শুধু ক্ষোভ নয়, আরও গভীর কিছু প্রকাশ পায়– যা এক ধরনের ‘প্যারানইয়া’– আতঙ্ক। যা পরপর নির্বাচনে ল্যান্ডস্লাইড জয়লাভের পরও একটি সরকারের কপালে ভঁাজের কারণ হয়ে উঠছে। একটা মামুলি আরশোলা তাদের মোটা চামড়া ভেদ করে ঢুকে পড়েছে– এ অবিশ্বাস্য। সরকার পক্ষ যতবার ‘ষড়যন্ত্র’ বলে গলা ফাটাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে তারা এই ভিন্নমত দ্বারা ভীত, কারণ এই উদ্ভট শক্তিকে পরাস্ত করার টোটকা এখনও অধরা।
‘ভাইরাল’ ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন, যা শুরু হয় আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে থাকা তুলনামূলকভাবে অজ্ঞাত এক রাজনৈতিক কৌশলবিদের দ্বারা– হঠাৎ করেই ভারতের ক্ষমতার করিডোরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে– এই ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই অস্বস্তির পিছনে ৪টি প্রধান কারণ। প্রথমত, এই সরকারের ক্ষমতা বহুলাংশে নির্ভরশীল বয়ান বা ‘ন্যারেটিভ’ নিয়ন্ত্রণের উপর। হালের শাসনব্যবস্থা যেন ২৪ ঘণ্টার এক বিজ্ঞাপন প্রচারাভিযান– সাফল্যের প্রচার করো, ব্যর্থতা চাপা দাও, স্লোগান বদলাও এবং এগিয়ে চলো। কোটি কোটি প্রতিশ্রুত চাকরি মেলেনি, কৃষকের আয় দ্বিগুণ হয়নি, প্রশ্নপত্র ফঁাস জারি– তবু ন্যারেটিভ আর মনকাড়া ভাষণের জেরে তরি ঠিক পার হয়ে যাচ্ছে শাসকের। কিন্তু মুশকিল হল, ডিজিটাল আরশোলারা শাসকের বারফট্টাইয়ের তোয়াক্কা করে না।
দ্বিতীয়ত, যুবসমাজের ক্ষোভ নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ জিডিপি-র পরিসংখ্যান ও উচ্চকণ্ঠ জাতীয়তাবাদের আড়ালে এক প্রজন্ম গভীর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়ছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত তরুণ ক্রমশ সংকুচিত কর্মসংস্থান, বাড়তে থাকা পরীক্ষার চাপ এবং স্থায়ী চাকরির অভাবের জেরে ঢুঁকতে থাকা অর্থনীতির চক্রব্যূহে বন্দি। অনেকের হতাশা নৈরাশ্যে পরিণত। তাদের বিশ্বাস, নির্বাচনের সময় ছাড়া রাজনৈতিক নেতারা তাদের পোছেও না, আর তাই সমবেত প্রতিবাদ ছাড়া গতি নেই। সুতরাং, এই ক্ষোভ কেবল মতাদর্শগত নয়– একান্ত ব্যক্তিগত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে, বিশেষ করে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে, বিজয় থলাপতির উত্থান থেকে তরুণ ভোটারদের এই প্রবণতা স্পষ্ট। সারা দেশে তরুণ ভোটাররা পুরনো রাজনৈতিক বিভাজনকে ক্রমশ প্রত্যাখ্যান করছে। তারা খুঁজছে নতুনত্ব, স্বতঃস্ফূর্ততা, রসবোধ এবং আবেগের সংযোগ। ‘মিম’-সংস্কৃতি তাদের প্রতিবাদের ভাষায় পরিণত। এবং সম্ভবত এটাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সবচেয়ে অবমূল্যায়িত দিক– ব্যঙ্গ এখন রাজনৈতিক অস্ত্র। কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা প্রায়শই হাস্যরসের মেনে নিতে অপারগ। তারা বিরোধী-বয়ান, টেলিভিশন বিতর্ক বা তীব্র সম্পাদকীয় কূটকাচাল গায়ে না মাখলেও, উপহাস দমন করতে শেখেনি। বর্তমানে একটি ‘মিম’ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বহু যত্নে নির্মিত সরকারের অজেয় ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ে ব্যাঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। আর একবার
যদি ক্ষমতা যদি হাস্যরসের বিষয় হয়ে ওঠে, তার শক্তিক্ষয় অবসম্ভাবী।
এ কারণেই বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাগুলি শেষ পর্যন্ত কৌতুকাভিনেতা, কার্টুনিস্ট, ইউটিউবার এবং বেনামী ‘মিম’-নির্মাতারা হয়ে ওঠে সরকারের মাথাব্যথার কারণ। হাস্যরস ভিন্ন মতের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটায়। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়েও বা সভা-সমাবেশে না গিয়েও প্রতিরোধে অংশ হয়ে ওঠার সুযোগ দেয়। অনেক সময় এমন একখানা ‘ভাইরাল’ রসিকতার অভিঘাত শতাধিক বিরোধী সাংবাদিক সম্মেলনের চেয়েও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
তৃতীয়ত, সিজেপি যেসব প্রশ্ন সামনে আনছে– বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফঁাস, লাগামহীন দুর্নীতি, নীতিহীন দলবদল এবং এই ধারণা যে, ‘ব্যবস্থা’ কেবল ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীদের জন্য কাজ করে–সেগুলি ইতিমধে্যই মানুষের মনে গভীর সাড়া ফেলেছে। আন্দোলনটিকে অাপাত-বিশৃঙ্খল বা সময়বিশেষে শিশুসুলভ মনে হলেও, এটি মানুষের বাস্তব উদ্বেগের কারণগুলিকে সমক্ষে এনেছে, যে উদ্বেগ বা সমস্যার সমাধানে শাসক ও তাদের দল ব্যর্থ।
বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাগুলি শেষ পর্যন্ত কৌতুকাভিনেতা, কার্টুনিস্ট, ইউটিউবার এবং বেনামী ‘মিম’-নির্মাতারা হয়ে ওঠে সরকারের মাথাব্যথার কারণ। হাস্যরস ভিন্ন মতের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটায়।
ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতাব্যবস্থা ভিন্নমতকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তাকে অগ্রাহ্য করতে চায়। সমালোচনাকে আর মতভেদ চিত্রিত হয় ষড়যন্ত্র হিসাবে। প্রশ্ন তোলার পরিসর ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে থাকে, এমনকী একসময় ব্যঙ্গের মতো নিরাপদ প্রতিবাদের হাতিয়ার সরকারের কাছে ভয়ংকর বলে পরিগণিত হয়। এভাবে লাগাতার মূলধারার মতপ্রকাশের পথ বন্ধ হলে, বিশেষত তরুণ প্রজন্ম, অনিবার্যভাবেই আরও বিঘ্নসৃষ্টিকারী ও বিদ্রোহী প্রতিবাদের দিকে ঝুঁকবে। সেই অর্থে সিজেপি তরুণ প্রজন্মের অসহিষ্ণুতার বীজ।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল– আরশোলা-আন্দোলনের উত্থান বিরোধীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা বহন করে। ভারতের তরুণ সমাজের ক্ষোভ বাস্তব, তীব্র এবং সুদূরপ্রসারী। কিন্তু ক্ষোভ স্বতঃই রাজনৈতিক পরিবর্তনের রূপ নেয় না। বিরোধী দলগুলি যদি এই হতাশাকে সৃজনশীল, বিশ্বাসযোগ্য ও সংগঠিতভাবে পথ দেখাতে না পারে, তবে এই শক্তি ‘মিম’ ও ডিজিটাল বিদ্রোহ হয়েই আটকে থাকবে; বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পরিণত হবে না। যারা নেপালের ‘জেন-জি’ বিদ্রোহের সঙ্গে এর তুলনা টানছেন, তাদের জন্য বলি– ২৯ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি দেশের প্রতিবাদ-তরঙ্গকে ১৫০ কোটির বহুমাত্রিক সমাজের সঙ্গে তুলনায় আনা যায় না।
সময়ের কী পরিহাস দেখুন! হালে যারা ক্ষমতায়, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও, এক সময়ের যুব প্রতিবাদ আন্দোলনের ফসল। সাতের দশকের গোড়ায় গুজরাতোর ‘নব নির্মাণ আন্দোলন’-ই পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী ও ‘জরুরি অবস্থা’-র বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের পূর্বসূরি হয়ে ওঠে। ২০২৬ আর ১৯৭৫ এক নয়। বা বলা ভালো, এখনও নয়। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট: প্রতিটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা একসময় বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, তাদের আধিপত্য চিরস্থায়ী। প্রতিটি শাসকগোষ্ঠী ভাবতে থাকে, তারা-ই একমাত্র জাতীয় প্রতিনিধি। এবং প্রতে্যক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত আবিষ্কার করে– ক্ষোভ ফিরে আসে, ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর জমি থেকেও উঠে আসে প্রতিবাদের ফসল।
পুনশ্চ হালের সিজেপি সমর্থক তরুণরা– যারা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ‘বেকার, অলস এবং সর্বক্ষণ অনলাইনে থাকা’ মানুষ হিসাবে– হয়তো তারা সাংগঠনিক কাঠামো, মতাদর্শ বা সম্পদের অভাবে ভুগছে। কিন্তু তাদের হাতে রয়েছে অন্য এক শক্তি: সৃজনশীলতা, নির্ভীক ব্যঙ্গ এবং ক্ষমতাকে উপহাস করার সাহস। বিজেপির মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক সিস্টেম সহজেই প্রচলিত বিরোধীদের দমন করতে। কিন্তু যাদের কোনও দৃশ্যমান নেতৃত্ব নেই, সদর দফতর নেই, আর হারানোরও বিশেষ কিছু নেই– এমন বিকেন্দ্রীভূত সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সামলানো কঠিন। সেটাই মোদি সরকারের প্রকৃত মাথাব্যথার কারণ– ‘আরশোলা উপদ্রব’।
