shono
Advertisement
Quad

কোয়াড ঐক্যে প্রশ্ন, নেপথ্যে মার্কিন দাদাগিরি?

কোয়াড ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মঞ্চ, কিন্তু তার ঐক্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 08:36 PM Jun 02, 2026Updated: 08:36 PM Jun 02, 2026

'কোয়াড' বা 'চতুর্দেশীয় অক্ষ' গত এক দশকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত মঞ্চ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোটের মূল 'লক্ষ্য' ছিল একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় জোট গড়ে তোলা। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সদস্য দেশগুলির নিজস্ব কৌশলগত অগ্রাধিকারের ফলে কোয়াডের ভবিষ্যৎ ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কোয়াড বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সেই প্রশ্নগুলিরই এক জটিল প্রতিফলন।

Advertisement

মঙ্গলবার ২ জুন ২০২৬ বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফিজিতে বন্দর নির্মাণের মতো প্রকল্প এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং সমুদ্রপথের স্বাধীনতা রক্ষার মতো বিষয়েও চার দেশ একমত হয়েছে।

তবে এই ঐকমত্যের আড়ালে কিছু অস্বস্তিকর বিষয়ও রয়েছে। কোয়াডের অন্যতম প্রধান সদস্য আমেরিকা সম্প্রতি নানা আন্তর্জাতিক প্রশ্নে একতরফা অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, চিনের সঙ্গে নতুন ধরনের সমঝোতার প্রচেষ্টা, বা রাশিয়াকে ঘিরে পরিবর্তিত কূটনৈতিক অবস্থান- সব ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোয়াডের অন্য সদস্যদের ভূমিকা ছিল সীমিত। ফলে, কোয়াডকে কি সত্যিই একটি সমমর্যাদার অংশীদারিত্বের মঞ্চ বলা যায়, না কি এটি এখনও অনেকাংশে আমেরিকার কৌশলগত অগ্রাধিকারের উপর নির্ভরশীল, সেই প্রশ্ন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

ভারতের ক্ষেত্রে এই দ্বিধা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে নয়াদিল্লি চিনের আগ্রাসী ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় কোয়াডকে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসাবে দেখতে চায়। অন্যদিকে, ভারত ঐতিহাসিকভাবে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতি অনুসরণ করে এসেছে। ফলে, এমন জোটে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে। সে-কারণে, ভারতের স্বার্থে কোয়াডের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল- এই জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি চার দেশ একই লক্ষ্যের কথা বলেও ভিন্ন ভিন্ন দিকে এগতে থাকে, তবে কোয়াড কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতীক হয়ে থাকবে। আর যদি পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এগতে পারে, তবে আগামীতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ও প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement