গঙ্গার ভূতনি চর মানেই দেশি প্রজাতির কালো কলাই ডাল। গরম ভাত আর আলু পোস্ত, সঙ্গে ভূতনি চরের কলাই ডাল। খেতে সুস্বাদু। সুগন্ধিও। একেবারে খাঁটি বাঙালিয়ানা। এবার সেই কালো কলাইয়ের জিওগ্রাফিকাল ইন্ডেক্স (জিআই) ট্যাগ চায় মালদহের ভূতনি চর। গঙ্গা ও ফুলহার নদী ঘেরা ভূতনি চরের পাশেই রয়েছে গদাই চর। সেই চরেরও কালো কলাই উৎপাদনের জন্য জেলা তথা বাংলাজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। নামডাক রয়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ ভিনরাজ্যেও। রতুয়ার বিলাইমারি চর, মহানন্দাটোলা চর এবং কালিয়াচক-২ ও ৩ নম্বর ব্লকে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় কালো কলাইয়ের ভালো চাষ হয়। এই কলাই যেহেতু মালদহের গাঙ্গেয় উপত্যকা অঞ্চলের শস্য, তাই জেলা থেকে এবার কালো কলাইয়ের ভৌগোলিক অঞ্চলের স্বীকৃতির দাবি তোলা হয়েছে। জিওগ্রাফিকাল ইন্ডেক্স (জিআই) ট্যাগের অপেক্ষায় ভূতনি চরের কালো কলাই।
ইতিমধ্যেই জিআই তকমা পেয়েছে মালদহের তিনটি প্রজাতির আম। লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগর এবং ফজলি। তারপর জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডেক্স লাভ করেছে মালদহের নিস্তারি রেশম গুটিও। এবার নয়া দাবি কালো কলাইয়ের। এই শস্যের জিআই স্বীকৃতি চেয়ে রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরে আবেদন জানাল মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। সংগঠনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানিয়েছেন, "জিআই স্বীকৃতির বিষয়ে প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট বিভাগে রিপোর্ট পাঠিয়ে থাকে জেলা প্রশাসন। এই কারণে জেলায় একটি মনিটরিং কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সভাপতি জেলাশাসক। কলাই ডালের জিআই স্বীকৃতির জন্য আমরা জেলাশাসকের দপ্তরেও প্রস্তাব পেশ করলাম। এই ব্যাপারে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরেও আবেদন জানানো হল। জিআই ট্যাগ পাওয়া গেলে কালো কলাইয়ের চাহিদা আরও বাড়বে। ফলে চাষও বাড়বে। অর্থনৈতিকভাবে চাষিরা লাভবান হবেন।"
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে মূলত গঙ্গা, ফুলহার ও কালিন্দ্রী অববাহিকার অন্যতম জনপ্রিয় ফসল কালো কলাই। মানিকচক, কালিয়াচক-২ এবং কালিয়াচক-৩ ও রতুয়া-১ নম্বর ব্লক এলাকায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে এই চাষ হচ্ছে। জেলার দিয়ারা অঞ্চলেও বর্ষা ও বন্যার সময় পলি জমলে সেখানে চাষিরা কলাই বীজ ছড়িয়ে দেন। তাতেই উৎপাদিত হয় বিখ্যাত এই কলাই। চাষের খরচ খুব কম। লাভ বেশি। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি জানান, মালদহের কলাই ডালের দিনের পর দিন ঐতিহ্য বাড়ছে। দেশি প্রজাতির কলাই ডাল চাষে জেলার বাইরে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে মালদহের। বাজারে চাহিদা অনেক বেশি। গুণগত মানও খুব ভালো। সুস্বাদু। চাষের এলাকা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে মালদহ জেলা কৃষিদপ্তর।
সেই সঙ্গে চাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের বীজ, আগাছানাশক ও কীটনাশক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গঙ্গার চরগুলিতে প্রশিক্ষণ শিবিরেরও উদ্যোগ নিয়েছে কৃষিদপ্তর। জেলায় ফি বছর প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন কলাই ডাল উৎপাদন হয়। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, "ভূতনি চরের কালো কলাই ডালের অদ্ভুত স্বাদ রয়েছে। সর্বত্র এর চাহিদা আছে। রাজ্যের অন্য জেলায় কালো কলাইয়ের চাষ বিশেষ হয় না। তাই এর জিআই স্বীকৃতির ব্যাপারে শিল্পোদ্যোগী সংগঠনের দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। আমরা এই ব্যাপারে সহযোগিতা করব।"
