খাবার পাতে অনিয়ম হলে আমরা মাঝেমধ্যেই উপোস করি। শরীরকে ডিটক্স করতে ভারী লাঞ্চের বদলে আমরা বেছে নিই ফল বা জল। কিন্তু আপনার প্রিয় ত্বক কি সেই আরাম পায়? দিনভর রকমারি প্রসাধনী, মেকআপ আর দূষণের চাপে আপনার ত্বকও কিন্তু হাঁপিয়ে উঠছে। খেয়াল করেছেন কী? ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন তাই নতুন ট্রেন্ড— 'স্কিন ফাস্টিং'। অর্থাৎ ডায়েটের মতো ত্বককেও রাখতে হবে উপোসে।
বিরতি নিলে ত্বক আবার তার পুরনো জেল্লা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পায়
কেন করবেন স্কিন ফাস্টিং?
আমাদের ত্বকের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে তেল উৎপাদন করা বা ছোটখাটো ক্ষত সারিয়ে তোলা— ত্বক সবটাই নিজে করতে পারে। কিন্তু আমরা ক্রমাগত সিরাম, রেটিনল বা রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিই। প্রসাধনীর আস্তরণ, ঘাম আর ধুলোবালি মিলে রোমকূপ বুজিয়ে দেয়। তাই মাঝেমধ্যে সব প্রসাধনী থেকে বিরতি নিলে ত্বক আবার তার পুরনো জেল্লা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পায়।
নিয়মকানুন কী?
১) স্কিন ফাস্টিং মানে হল অন্তত ২৪ ঘণ্টা ত্বকে কোনও প্রসাধনী না লাগানো। ৭ থেকে ১৪ দিন অন্তর একদিন এই নিয়ম পালন করতে পারেন।
২) এই সময় AHAs, BHAs বা রেটিনলের মতো কোনও সক্রিয় উপাদান ব্যবহার করবেন না।
৩) এমনকী কোনও মাস্ক বা এক্সফোলিয়েটরও ছোঁয়াবেন না মুখে।
৪) বাইরের প্রসাধনীর বদলে জোর দিন ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোর দিকে।
৫) প্রচুর জল খান, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং পাতে রাখুন প্রচুর মরশুমি ফল ও শাকসবজি।
৭ থেকে ১৪ দিন অন্তর একদিন এই নিয়ম পালন করতে পারেন
সাবধানতাও জরুরি
স্কিন ফাস্টিং সবার জন্য সমান নয়। বর্তমানের অতিরিক্ত দূষণে পুরোপুরি প্রসাধনীহীন থাকা কঠিন হতে পারে। যাদের ত্বক খুব শুষ্ক কিংবা একজিমা বা ব্রণের সমস্যা আছে, তারা একেবারেই সব বন্ধ করবেন না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কেবল ক্লিনজ়ার, হালকা ময়েশ্চারাইজ়ার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
