পার্লারে গিয়ে ম্যানিকিউর করালেন। অথবা সাধ করে পছন্দের ব্র্যান্ডের নেলপলিশ লাগালেন। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নখের কোণ থেকে রং উঠতে শুরু করেছে? সুন্দর হাতের ছিরি বিগড়ে দিতে এই ‘চিপিং’ বা নেলপলিশ উঠে যাওয়াই যথেষ্ট। দামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করেও কেন এমন হয়? বিউটি এক্সপার্টরা বলছেন, দোষটা রঙের নয়। বরং আমাদের নখ সাজানোর অভ্যাসের। সামান্য কিছু ভুল পদক্ষেপই নষ্ট করে দিচ্ছে আপনার ফ্যাশন।
বিউটি বিশেষজ্ঞদের মতে, নেলপলিশ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার প্রধান কারণ নখের সঠিক প্রস্তুতি না থাকা। পলিশ লাগানোর আগে নখে যদি তেল, ময়লা বা ক্রিমের অবশিষ্টাংশ লেগে থাকে, তবে রং ঠিকমতো বসে না। ফলে দু’দিন যেতে না যেতেই নখ থেকে রং আলগা হয়ে যায়। নখ পরিষ্কার ও শুকনো রাখাটাই প্রথম শর্ত।
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে সরাসরি নখে রং লাগিয়ে নেন। অথচ বেস কোট ব্যবহার করা আবশ্যিক। এটি নখের ওপর একটি সুরক্ষার স্তর তৈরি করে, যা পলিশকে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে। ঠিক তেমনই, নেলপলিশ লাগানো শেষ হলে ওপর থেকে একটি স্বচ্ছ ‘টপ কোট’ লাগানো জরুরি। এটি রঙের স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
একসঙ্গে নেলপলিশের মোটা স্তর বা ‘থিক লেয়ার’ লাগানোর অভ্যাস অনেকেরই আছে। এতে পলিশ ঠিকমতো শুকোয় না এবং দ্রুত পিলিং বা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাতলা স্তরে পলিশ লাগান। প্রথম স্তর শুকিয়ে গেলে তবেই দ্বিতীয় কোট দিন। নখ পুরোপুরি শুকানোর আগে জল লাগানোই বড় ভুল।
প্রতিদিনের গৃহস্থালির কাজও নেলপলিশের পরম শত্রু। বারবার ডিটারজেন্ট, জল বা সাবানের সংস্পর্শে এলে নখের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই ঘরের কাজ করার সময় গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন রূপবিশেষজ্ঞরা।
সামান্য এই সচেতনতাটুকুই আপনার হাতের নখকে নজরকাড়া করে তোলে। ফ্যাশন শুধু সাজে নয়, তাকে টিকিয়ে রাখার কৌশলেও বেঁচে থাকে।
