Advertisement

সৃজিতের মগজাস্ত্রের অব্যর্থ নিশানায় ‘ফেলুদা ফেরত’, তুরুপের তাস টোটা-অনির্বাণ

06:27 PM Dec 26, 2020 |

সুপর্ণা মজুমদার: নাজুক! টোটা ‘ফেলুদা’ রায়চৌধুরী এবং অনির্বাণ ‘জটায়ু’ চক্রবর্তী এতদিন কোথায় ছিলেন বলুন তো! দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যখন লালিত-পালিত ধীরে ধীরে ভালবাসা ও স্নেহের পরতে মিশে যায় তখন কী হয়? ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’ও (Chhinnamastar Abhishap) ফেলুদাপ্রেমী দর্শকদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে যায়। হ্যাঁ, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) টেলিপ্যাথির জোর আছে।

Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

“আপনি কি শিকার করেন?” “শুধু মানুষ।” ওয়েব দুনিয়ায় ফেলুদাকে ফেরত (Feluda Pherot) নিয়ে এসে যেন এমন ধরনের সংলাপে পয়েন্ট থ্রি টু কোল্ট রিভলভার দিয়ে অব্যর্থ নিশানা সেধেছেন পরিচালক সৃজিত। যে কাহিনি প্রায় সমস্ত রহস্যপ্রেমী বাঙালির জানা, তাকে নিজস্বতার ছোঁয়াতে উপভোগ্য করে তুলেছেন ওয়েবের পর্দায়। তাঁর দুই ভরসা যোগ্য ব্যাটসম্যান টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Choudhury) এবং অনির্বাণ চক্রবর্তী (Anirban Chakrabarti)। একজন অভিনেতার তীব্র ক্ষুধা যখন কাঙ্খিত চরিত্রের স্বাদ পায় তাহলে কী হতে পারে, তার আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছেন টোটা। তাঁর নির্বাচন নিয়ে অনেক কথাই হয়েছিল। প্রথম ঝলক মুক্তির পর শুধুমাত্র চোখের দেখার মিল নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু ফেলুদার প্রত্যেকটি ভঙ্গিমাকে নিখুঁত করে তুলেছেন টোটা। তাঁর শান্ত, ধীর অথচ তীক্ষ্ম চাহনি কোনও ফাঁক ধরার সুযোগ দেয়নি। রাতের অন্ধকারে শংকরলালের সঙ্গে কথা বলছেন, টর্চের আলো ফেলুদারূপী টোটার চেহারায় পড়া মাত্রই শিহরণ জাগে। প্রতিটা মূহূর্তে যেন নিজেকে সংযত ও সাবধানী রেখেছিলেন টোটা।

[আরও পড়ুন: হরনাথপুত্র হিন্দোলের প্রথম ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় সুপারস্টার জিৎ!]

অনির্বাণের সম্পর্কে এক্কেবারে ঠিকই বলেছিলেন সৃজিত ও টোটা। কখন যে ম্যাচ বের করে নিয়ে চলে যাবেন প্রতিপক্ষ ধরতেই পারবে না। এই দুই তুরুপের তাসের পাশাপাশি নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, ঋষি কৌশিক, সমদর্শী দত্ত, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, পৌলমী দাস, কৃষ্ণেন্দু দেওয়ানজি এবং শিশুশিল্পী আদৃজা দত্ত। তোপসের চরিত্রে কল্পনের চোখেমুখে আর একটু অভিব্যক্তি আশা করেছিলাম। ভিএফক্সের মাধ্যমে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড ব্যবহার না করলেও চলত। সাইলেন্স অনেক সময় শব্দের চেয়ে বেশি কানে বাজে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের চেনা টপ অ্যাঙ্গেল শটগুলিতে দেখে এই করোনা (Corona Virus) কালে বেজায় মনখারাপ হল। এমন কাজ কেউ করে নাকি মশাই! গৃহবন্দি বাঙালিকে কেউ এভাবে বুনো গন্ধের উসকানি দেয়! সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) দিব্যি, আমি ফেলুদার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। তাই আড্ডাটাইমস (Addatimes) প্ল্যাটফর্মে ‘যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে’র (Jawto Kando Kathmandute) প্রতীক্ষায় থাকব।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
Advertisement
Next