অনেকদিন পর বাংলায় একটা অন্যধরণের ছবি দেখলাম। এমন একটা ধারার ছবি যেটা এখানে খুব বেশি হয় না। পুরো গল্পটা বলব না, নাহলে আপনাদের ছবি দেখার মজাটা চলে যাবে। গ্রামবাংলার এক প্রান্তে, একসময়ের কবরস্থান দখল করে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল ভানুপ্রিয়ার ভূতের হোটেল দাঁড়িয়ে আছে। যার নির্মাণে বাস্তুহারা হয়েছে কিছু অতৃপ্ত আত্মা এবং বিঘ্নিত হয়েছে তাদের শান্তি। এরপর এক উকিলের সাহায্য নিয়ে তারা নিজেরাই আবার এই হোটেলে ঢুকে পড়েন। হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করতেই প্রেতাত্মারা নানা কুসংস্কার আর অদৃশ্য বাঁধার সম্মুখীন হয়, আর সেই সঙ্গে তারা জড়িয়ে পড়ে বিপর্যস্ত অতিথিদের জীবনের সঙ্গে। ছবির প্রথমদিকে চরিত্রগুলো গড়ে উঠতে একটু সময় নেয় ঠিকই। কিন্তু ইন্টারভ্যালের পর থেকেই দারুণ গতি বজায় রাখে। শেষের দিকে কিছু টুইস্ট দর্শককে চমকে দেবে।
আলো-ছায়ার ব্যবহার ছবির ভৌতিক ও মজার মুহূর্তগুলোকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে। প্রত্যেক অভিনেতার কাজ বেশ সংযত ও নিয়ন্ত্রিত।
জিনিয়া সেন আর গোধূলি শর্মার চিত্রনাট্য ও সংলাপ একদম টানটান। পুরো গল্পটাকে ছোট করে, গুছিয়ে ধরে রাখতে পেরেছেন। ছবির সঙ্গীত খুবই ভালো। বিশেষ করে, অর্ণব দত্তর 'আমি বার বার' গানটি খুব ভালো লেগেছে। প্রতীপ মুখোপাধ্যায়ের চিত্রগ্রহণ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। পাহাড়, কুয়াশা আর হোটেলের পরিবেশ দারুণভাবে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আলো-ছায়ার ব্যবহার ছবির ভৌতিক ও মজার মুহূর্তগুলোকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে। প্রত্যেক অভিনেতার কাজ বেশ সংযত ও নিয়ন্ত্রিত। কোথাও বাড়াবাড়ি নেই। নতুন জুটি মিমি আর সোহমকে বড়পর্দায় দেখতে ভালো লাগছে। আলাদা করে নজর কেড়েছেন স্বস্তিকা দত্ত। একজন অভিনেতা যখন ভালো সুযোগ পায়, তখন সে কতটা নিজেকে উজাড় করে দিতে পারে বনি সেনগুপ্তকে দেখলেই সেটা বোঝা যায়। মানসী সিনহা, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, উজান চট্টোপাধ্যায় এবং বাদ বাকি অভিনেতারাও যথেষ্ট মন প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন।
এই সিনেমায় দুটি বাচ্চা পাল্লা দিয়ে বড়োদের সাথে অভিনয় করে গিয়েছে। অবশ্য সেটার কৃতিত্ব আমি পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়কে দেবো। পরিচালকের মধ্যে দক্ষতা থাকলে সে অভিনেতার ভেতর থেকে তার শ্রেষ্ঠটা বার করে আনতে পারে। ঠিক যেমন সে করেছে অনামিকা সাহার ক্ষেত্রে। এত বছর ধরে কাজ করার পর এরকম একটি চরিত্র তার প্রাপ্য ছিল। অরিত্রর থেকে আমার অনেক আশা থাকে সবসময়ে। ও বাঙালি মননে ছবি তৈরি করতে পারে যেটা এইসময় দাঁড়িয়ে খুব দরকার। টিম নন্দিতা, শিবপ্রসাদ, জিনিয়া এবং অরিত্রর তরফ থেকে 'ভানুপ্রিয়া ভুতের হোটেল' একটি নতুন প্রচেষ্টা, নতুন চমক। হরর আর কমেডি- দুটোই খুব স্বাভাবিকভাবে গল্পের মধ্যে মিশে আছে। তাই আমার বিশ্বাস দর্শক নিরাশ হবেন না।
