পবিত্র রমজান মাসে দিন শুরু হয় সেহরী দিয়ে। প্রার্থনার আগেই সেরে নিতে হয় জলখাবার। তখনও আকাশে ভালো করে সূর্যের আলো ফোটেনি। স্বভাবতই ভারী কিছু খাওয়া চলে না এই সময়ে। আবার সে খাবার হতে হবে এমন, যা থেকে পর্যাপ্ত এনার্জি পাওয়া যায়। যাতে কর্মক্ষমতা বাড়ে, শরীর থাকে একইসঙ্গে সতেজ ও প্রাণবন্ত। এমন খাবার বানাতে অবশ্য ওটসের মতো কার্যকরী অন্য কিছু হতেই পারে না। আজ রইল ওটসে বানানো পাঁচটি জলখাবারের রেসিপি।
ওটসে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিটা-গ্লুক্যান। যা পেটে গেলে অনুভব হয়, যেন দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি রয়েছে। এছাড়াও ওটসে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।
রেসিপি নং ১
ফুটন্ত দুধে অর্ধেক কাপ ওটস দিয়ে ৩-৪ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। ওটস নরম হলে, দুধ মাঝারি আঁচে নিয়ে আসুন। একটি কলা টুকরো করে দিয়ে দিন তার মধ্যে। স্বাদ আনতে দিন এক টেবিলচামচ মধু। চিনিও দেওয়া যেতে পারে, তবে তাতে খাদ্যগুণ ব্যহত হয়। চাইলে দারুচিনি গুঁড়োও দিতে পারেন। না দিলেও অসুবিধে নেই। আরও এক মিনিট মতো নেড়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
রেসিপি নং ২
ফুটন্ত জলে অর্ধেক কাপ ওটস দিন, ফুটতে দিন ৩-৪ মিনিট। বড় চামচে নাড়তে থাকুন, যাতে জমাট বেঁধে যেতে না পারে। একটি ডিম ফাটিয়ে দিন তার মধ্যেই। লবণ ও গোলমরিচ দিন। দিতে পারে পিঁয়াজ, টমেটো কুঁচি, ধনেপাতা। আরও ১-২ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে ডিমের ভিতরের কোনও অংশ কাঁচা না থেকে যায়। এমনভাবে ওটস তৈরি করলে, পেটে অনেকক্ষণ থেকে যায়।
রেসিপি নং ৩
এই রান্নায় আগুনের প্রয়োজন পড়বে না! একটি কাচের পাত্রে অর্ধেক কাপ অটস নিন। মেশান এক কাপ দুধ। দুধ আগে থেকেই ফুটিয়ে, ঠান্ডা করে রাখতে হবে। চামচ দিয়ে ভালোভাবে মেশান। দিন চিয়া সিড, কুঁচানো আমন্ড, আপেল, বেদানা, কলা কিংবা অন্য কোনও পছন্দের ফল। ফ্লেভার বাড়াতে ভ্যানিলা পাউডারও দেওয়া যেতে পারে। পাত্রটি চাপা দিয়ে রেখে দিন সারা রাত। সকালে আরও একবার চামচে নেড়ে নিন মিশ্রণটি। সামান্য দুধ মেশাতে পারেন, তাতে মণ্ডের ঘনত্ব কমবে। স্বাদ ও স্বাস্থ্যে অতুলনীয় ওটসের এই রেসিপি।
রেসিপি নং ৪
রমজানে প্রচুর পরিমাণে খেজুর খাওয়া হয়। তাই খেজুরকেও কাজে লাগানো যায় জলখাবারে। গ্যাস জ্বালানোর দরকার পড়বে না। কাচের পাত্রে অর্ধেক কাপ ওটস নিন। মেশান আগে থেকে ফুটিয়ে রাখা এক কাপ দুধ। তাতে দিন চিয়া সিড, কুঁচিয়ে রাখা আমন্ড অথবা আখরোট, কুঁচানো খেজুর। ইচ্ছে হলে দারুচিনি গুঁড়োও দেওয়া চলে। ভালোভাবে মিশিয়ে রেখে দিন সারা রাত। ভালোভাবে জমাট বাঁধে যাতে, তার জন্য ফ্রিজেও রাখা যায়। সকালে মিশ্রণ আরও একবার নেড়ে নিলেই রেডি।
রেসিপি নং ৫
ওটসের মিষ্টি রেসিপি ভালো না লাগলে ঝাল-ঝাল করেও বানানো যায়। গরম জলে ৩-৪ মিনিট অবধি ওটস ফুটতে দিন। নুন, গোলমরিচ, মাখনের টুকরো দিন তাতে। নামিয়ে তা খানিক ঠান্ডা হলে, উপরে ছড়িয়ে দিন কুঁচিয়ে রাখা পিঁয়াজ, টমেটো, শশা। লেবুর রসও ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে মাখন বাদ দিতে হবে। ফোটনোর সময় জলের বদলে ভেজিটেবল স্টকও দেওয়া চলে। খেতে মন্দ লাগবে না। শরীরও থাকবে একেবারে ঝরঝরে!
