আমেরিকা বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) আসা ইস্তক, গ্যালারিতে মিডিয়ার নির্ধারিত জায়গায় বসার সুযোগ পেয়েছি। শনিবার পর্তুগাল-কলম্বিয়া ম্যাচ কভার করতে গিয়ে দেখি, গ্যালারিতে মিডিয়ার নির্দিষ্ট অংশে বসার জায়গা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। জায়গা পাওয়া গিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাঁচ দিয়ে ঘেরা বক্সে। অভিজ্ঞতা বলে, গ্যালারির নির্দিষ্ট মিডিয়া বক্সে বসে খেলা দেখার যে উন্মাদনা, তা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাঁচে ঘেরা বক্সে কোথায়? কিন্তু ম্যাচ কভার করার সময় যদি দেখেন, ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে আপনার সঙ্গেই ম্যাচ দেখছেন, হোসে পেকেরম্যান! কী করবেন? এতো ভিরমি খাওয়ার ব্যাপার।
তিনি সেই আর্জেন্টাইন কোচ, যিনি ২০০৬-এর বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দলের কোচ ছিলেন। লিওনেল মেসির সেটাই প্রথম বিশ্বকাপ। তার থেকেও বিশ্বফুটবলে পেকেরম্যান বেশি আলোচিত হয়েছিলেন, অন্য আরেকটি কারণে। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে অদ্ভুতভাবেই জার্মানির বিরুদ্ধে খেলালেন না মেসিকে। বেঞ্চে বসিয়ে রাখলেন! তাতেও এক গোলে এগিয়ে। বাকিটা সময় জার্মানির বিরুদ্ধে রক্ষণ শক্তিশালী করার জন্য রিকেলমেকে তুলে হুলিও ক্রুজকে মাঠে নামান। তাতে লাভের লাভ কিছুই হল না। টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আর্জেন্টিনা। মাঠের বাইরে বসে সারাক্ষণ ম্যাচ দেখলেন ১৯ বছরের মেসি। শুধু এই একটি সিদ্ধান্তের জন্য আজও তাঁকে বিশ্বফুটবলে সমালোচিত হতে হয়। না হলে ওঁর কোচিং কেরিয়ার ভাবুন। আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ-২০, তিন-তিনটে বিশ্বকাপে পেকেরম্যান কোচ। ২০১৪-বিশ্বকাপে, কলম্বিয়াকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। কলম্বিয়াকে যেভাবে তিনি বদলে দিয়েছিলেন, তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য কলম্বিয়া সরকার, পেকেরম্যানকে শুধুই নাগরিকত্ব নয়। দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানও প্রদান করে। সেই পেকেরম্যান ঠিক আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে পর্তুগাল-কলম্বিয়া ম্যাচ দেখছেন! পাশেই দাঁড়িয়ে ফিফার আধিকারিকরা। যাঁদের কাজ, ম্যাচ চলাকালীন পেকেরম্যানকে যেন কোনওভাবেই কেউ বিরক্ত করতে না পারেন, তা দেখা। ফলে বিরতির সময়েও কথা বলার সুযোগ হল না। যে সুযোগটা এল ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে।
প্রশ্ন : কেমন দেখলেন কলম্বিয়াকে?
পেকেরম্যান : কলম্বিয়ার ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে গেল। খারাপ নয় তো।
প্রশ্ন : এই কলম্বিয়া কি আপনার সময়ের কলম্বিয়ার থেকেও ভাল ?
পেকেরম্যান : (হেসে ফেললেন) আপনি নিশ্চয়ই ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের কথা বলছেন? উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে টানা ২২টা পাস খেলেছিল। তবে এভাবে তুলনা করাটা ঠিক নয়।
প্রশ্ন : কিন্তু ২০০৬ বিশ্বকাপে, জার্মানির বিরুদ্ধে মেসিকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তটা?
পেকেরম্যান : সেই সময় সেটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। ম্যাচের ফল অন্যরকম হয়তো হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে আমার সেই সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না।
দৃষ্টিনন্দন গোলের পর উল্লসিত মেসি। ছবি সংগৃহীত।
প্রশ্ন : কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডোকে কেমন লাগল?
পেকেরম্যান : যদি আপনি এই বিশ্বকাপের রোনাল্ডো নিয়ে কথা বলতে চান, তাহলে বলব, প্লিজ রোনাল্ডোকে আলোচনার বাইরে রাখুন। তবে আমি কিন্তু এই বিশ্বকাপের রোনাল্ডোর উপরে মন্তব্য করলাম। ওর এখন আর কিছু দেওয়ার নেই। সেরাটা আগেই দিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন : তাহলে এই বিশ্বকাপে কাদের দিকে নজর রাখা উচিত?
পেকেরম্যান : মেসি, এমবাপে, হালান্ড।
প্রশ্ন : তার মানে তো, আর্জেন্টিনা আবার চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে এগোচ্ছে?
পেকারম্যান : আমার তা মনে হচ্ছে না। আমি ইনডিভিজুয়াল মেসির কথা বলছি। আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মুশকিল আছে মনে হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ-২০, তিন-তিনটে বিশ্বকাপে পেকেরম্যান কোচ। ২০১৪-বিশ্বকাপে, কলম্বিয়াকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। কলম্বিয়াকে যেভাবে তিনি বদলে দিয়েছিলেন, তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য কলম্বিয়া সরকার, পেকেরম্যানকে শুধুই নাগরিকত্ব নয়। দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানও প্রদান করে।
প্রশ্ন : এখনও পর্যন্ত দেখে কোন দলকে চ্যাম্পিয়নশিপ দৌড়ে এগিয়ে রাখবেন?
পেকেরম্যান : দেখুন পরের রাউন্ডে মারাত্মক কিছু পরিবর্তন না হলে এই বিশ্বকাপে আমার ঘোড়া ফ্রান্স আর ব্রাজিল।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
প্রশ্ন : লাস্ট একটা প্রশ্নর উত্তর দিয়ে যান। মেসি না রোনাল্ডো?
পেকেরম্যান : এটা আবার বলার কি আছে? আমার ভোট রোনাল্ডো দিকে নয়। মেসির দিকে থাকবে।
ঠিক এরপরেই নিজের নির্দিষ্ট ঘরে সেঁধিয়ে গেলেন হোসে পেকেরম্যান।
