বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ঝড়ে ভুগছে গোটা দুনিয়া। প্রতি ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে ভক্তদের মধ্যে। এবার বিশ্বকাপে নতুন নিয়মও চালু হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। তবে কিছু বিষয় বহু পুরনো। তবু হয়তো অনেকেই এর অর্থ জানেন না। যেমন পেনাল্টি বক্সের সামনে থাকে একটি অর্ধ গোলাকৃতি বক্স। কী এর অর্থ? কেন থাকে এই 'ডি বক্স'? কেনই বা থাকে ছোট ৬ গজের বক্স?
পেনাল্টি বক্সের নির্দিষ্ট মাপ রয়েছে। গোললাইন থেকে পেনাল্টি বক্সের লাইনের দূরত্ব থাকে ১৮ গজ বা ১৬.৪৫ মিটার। তার বাইরে থাকে একটা অর্ধগোলাকৃতি বক্স। অন্যদিকে গোললাইন থেকে ১২ গজ বা প্রায় ১১ মিটার থেকে পেনাল্টি স্পট। সেখান থেকে পেনাল্টি মারা হয়। যখন কেউ পেনাল্টি কিক মারেন, তখন বক্সের মধ্যে অন্য কোনও প্লেয়ারের ঢোকার অধিকার থাকে না। সবাই থাকে বক্সের বাইরে। পেনাল্টি মিস করলে ডিফেন্ডাররা ঢুকে বল ক্লিয়ার করেন।
আর এখানেই 'ডি বক্সের' গুরুত্ব। এই বক্স এমনভাবে তৈরি হয়, যাতে গোললাইন থেকে পেনাল্টি স্পটের দূরত্ব থাকে ১০ গজ বা ৯.১ মিটার। অর্থাৎ ডি বক্সের যে মাথাতেই ডিফেন্ডাররা দাঁড়াক না কেন, পেনাল্টি স্পট থেকে সমান দূরত্বে থাকবে। ডিফেন্ডাররা যাতে বাড়তি সুবিধা না পায়, তাই এই বক্সের পরিকল্পনা। যদি পেনাল্টি মিস হয়, তাহলে একেবারে সামনে যে আছে, তার দ্রুত এগিয়ে আসার কথা। ডি বক্সের বাইরে থাকলে সেও সমান দূরত্বে থাকবে। এই ভারসাম্য রাখার জন্য 'ডি বক্সের' সৃষ্টি। একদিক থেকে দেখলে একে ইংরেজি 'ডি' অক্ষরের মতো দেখতে বলে এর এহেন নাম।
এবার আসা যাক ভিতরের আরও একটি বক্স সম্পর্কে। যা পরিচিত ৬ গজের বক্স নামে। গোলপোস্ট থেকে এর দূরত্ব ৫.৫ মিটার। কী দরকার ছিল এই ছোট বক্সের? কোনও দল গোল কিক বা কোনও ফ্রি-কিক এই এলাকার মধ্যে থেকে নিতে পারে। আবার যদি কোনও দল 'ইনডায়রেক্ট' ফ্রি-কিক পায়, তাহলে এই বক্সের বাইরে ঘটনার সবচেয়ে কাছের জায়গা থেকে নেওয়া হয়। মজার বিষয় হল, এই বক্স আগে আয়তক্ষেত্র ছিল না। দুটি বৃত্ত ছিল। ১৮৯৮ সালে তা বদলানো হয়।
ছবি: উইকিপিডিয়া
