মোহনবাগান ১ (ম্যাকলারেন)
এফসি গোয়া ১ (রনি)
লড়াইটা কঠিন ছিল। গোয়ায় গিয়ে গোয়াকে হারানো সহজসাধ্য নয়। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর এবারও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মরিয়া মোহনবাগান জিতে আসতে পারল না। এগিয়ে গিয়েও ১-১ ড্র করে ফিরছেন জেমি ম্যাকলারেন, লিস্টন কোলাসোরা। একই পয়েন্ট পেয়েও ইস্টবেঙ্গলের পিছনে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
প্রথমার্ধে দুই দলই নিজেদের রক্ষণ আগলাতে ব্যস্ত ছিল। শনিবার ম্যাকলারেন, রবসনকে সামনে রেখে দল সাজিয়েছিলেন সের্জিও লোবেরা। তবে আক্রমণে সেভাবে ধার ছিল না মেরিনার্সদের। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই এফসি গোয়ার রক্ষণের সামনে কার্যত নিষ্প্রভ দেখায় সবুজ-মেরুন আক্রমণভাগকে। একমাত্র আপুইয়ার দূরপাল্লার শটই ছিল মোহনবাগানের তৈরি করা সবচেয়ে দারুণ সুযোগ। এছাড়াও অ্যালড্রেডের হেড কিছুটা আশা জাগালেও গোলের মুখ খোলা যায়নি।
অন্যদিকে, প্রতি-আক্রমণের কৌশলেই এগিয়েছে এফসি গোয়া। প্রথমার্ধের শেষদিকে আক্রমণে গতি বাড়ান উদান্ত সিং ও রাবিহর, নেমিল, সাংওয়ানরা। তাতে কিছুটা হলেও নড়বড়ে দেখিয়েছে বাগান ডিফেন্সকে। দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান রবসনের পরিবর্তে নামায় জেসন কামিন্সকে। তাতে অবশ্য খেলার ঝাঁজ বাড়ে। ৫৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙলেন জেমি ম্যাকলারেন। অভিজ্ঞ সন্দেশ ঝিঙ্গানের ভুলেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তিনি। আর সেই সুযোগে জেমির সামনে চলে আসে বল। অপেক্ষায় থাকা ম্যাকলারেন গোল করতে কোনও ভুল করেননি। বক্সের ভিতর থেকে ঠান্ডা মাথায় শট নিয়ে গোলরক্ষক ববকে পরাস্ত করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন তিনি।
যদিও গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সবুজ-মেরুনের। ৬৭ মিনিটে গোয়াকে সমতায় ফেরান রনি উইলসন। ডানদিক থেকে ক্রস তুলেছিলেন তিনি। সেই বলই আচমকা জালে জড়িয়ে যায়। নিজেও হয়তো ভাবতে পারেননি এভাবে গোল পেয়ে যাবেন। ৭২ মিনিটে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো সুযোগ পেয়েও বল ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন কামিন্স। তাঁকে দুর্দান্ত বল বাড়িয়েছিলেন আবদুল সামাদ। শেষ পর্যন্ত কোনও পক্ষই আর কোনও গোল করতে পারেনি। ড্র করে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ২১ পয়েন্টে থাকল মোহনবাগান। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় লাল-হলুদ ক্লাব শীর্ষে।
