আর মাত্র ৪০ দিন। ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে উত্তর আমেরিকায়। কারণ, ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর মোট ১৬টি শহরে আয়োজিত হবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট দেশের শিল্পীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তারকারাও পারফর্ম করবেন।
শোনা যাচ্ছে, এই আয়োজনকে আরও জমকালো করতে আমেরিকায় থাকবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আলানিস মোরিসেট, মাইকেল বাবল-সহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী। কানাডার অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে নোরা ফতেহির। ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচের আগে পারফর্ম করবেন কলম্বিয়ার জে বলভিন, মেক্সিকোর রক ব্যান্ড মানা এবং পপ তারকা আলেজান্দ্রো ফের্নান্দেজ। পাশাপাশি বেলিন্দা ও লিলা ডাউন্সের মতো শিল্পীদেরও আনার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকার টাইলা এবং লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেসও মঞ্চ মাতাবেন।
পারফরম্যান্সে আগুন ঝরাচ্ছেন নোরা। ফাইল ছবি।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেন, “এটি এমন একটি মুহূর্ত, যা সারা বিশ্ব দেখবে। আমরা চাই প্রতিযোগিতার শুরুটা হোক বিশেষভাবে। মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু হয়ে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে পড়বে। যেখানে ফুটবল ও সংস্কৃতির সুন্দর মেলবন্ধন দেখা যাবে।” ১২ জুন কানাডা খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। ম্যাচ শুরুর আগে পারফর্ম করবেন আলানিস মোরিসেট, মাইকেল বাবল, আলেসিয়া সারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ এবং নোরা ফতেহি। ‘দিলবার’ বা ‘সাকি সাকি’র মতো গানের জৌলুসে কেরিয়ার শুরু করলেও নোরা এখন আর শুধুই আইটেম সংয়ে সীমাবদ্ধ নন। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন গ্লোবাল আইকন হিসাবে।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্সের খবর সামনে আসতেই ভক্তদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা। নোরার সিগনেচার ড্যান্স মুভস এবং অসাধারণ এনার্জি দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাছাড়াও ওই একই দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসে আমেরিকা মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের। সেই ম্যাচে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, র্যাপার ফিউচার, কে-পপ তারকা লিসা (ব্ল্যাকপিঙ্ক), ব্রাজিলীয় গায়িকা আনিতা, রেমা এবং টাইলা।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকার যে স্টেডিয়ামগুলোয় ম্যাচ আয়োজিত হবে, সেখানকার গড় দর্শক ধারণক্ষমতা ৭০ হাজারের বেশি। ফলে গ্রুপ পর্বের অনেক ম্যাচেই ৮০ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত থাকতে পারেন। এমন পরিবেশ সাধারণত বিশ্বকাপ ফাইনালেই দেখা যায়! যা এবার প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই মিলতে পারে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়েও বড় চমক সামনে এল। সেখানে তারকাদের নিয়ে বাজিমাত করার পরিকল্পনা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার।
