দেশের জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন। ফুটবলযুদ্ধে দেশের সৈনিক হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু আজ তাঁর ভোটাধিকার নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেনকে। কয়েকদিন আগে এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়েছিল মেহতাবের মা'কে। এবার তারকা ফুটবলারকেও তলব করল কমিশন। SIR নোটিস পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দুই প্রধানে খেলে যাওয়া তারকা ফুটবলার।
এসআইআর প্রক্রিয়াকে রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন মেহতাব। তাঁর কথায়, "এই প্রক্রিয়াটা নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তা করতে হত। যথাযথ পরিকল্পনা করতে হত। প্রচুর বয়স্ক মানুষকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে শুনানিতে। হাজিরা দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।" মেহতাবের প্রশ্ন, বয়স্ক মানুষ যাঁদের মাধ্যমিকের শংসাপত্র নেই তাঁরা আজ কীভাবে সেই নথি জোগাড় করবেন? যাঁদের সারাজীবন পাসপোর্ট নেই, তাঁরা আজ কীভাবে পাসপোর্ট তৈরি করবেন?
মেহতাবের মা'কে দিনকয়েক আগে এসআইআর তলব করা হয়েছিল। কমিশনের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় তাঁর নামে গরমিল রয়েছে। এবার মেহতাবকেও একই কারণে তলব করা হয়েছে। জাতীয় দলে খেলার পরেও কেন তলব? প্রাক্তন ফুটবলারের ক্ষোভ, "বিষয়টা জাতীয় দলের হয়ে খেলার নয়। আমরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। সেটা একেবারেই কাম্য নয়। ভোটার কার্ড তো সরকারই দিয়েছে। সেখানে ত্রুটি থাকলে আধিকারিকদের ডাকা হোক, আমজনতাকে কেন?" জানা গিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়েছে। খেলার কারণে ব্যস্ত হয়ে পড়লে পরের দিন হাজিরা দেবেন তিনি।
মেহতাবের প্রশ্ন, বয়স্ক মানুষ যাঁদের মাধ্যমিকের শংসাপত্র নেই তাঁরা আজ কীভাবে সেই নথি জোগাড় করবেন? যাঁদের সারাজীবন পাসপোর্ট নেই, তাঁরা আজ কীভাবে পাসপোর্ট তৈরি করবেন?
উল্লেখ্য, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লাদের ডাকা হয়েছে এসআইআরে। যাঁরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বা এখনও প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁদেরও কি নিজেদের বৈধ ভোটার বলে প্রমাণ করতে হবে? প্রশ্ন তুলছেন ক্রীড়াবিদরা। খেলোয়াড়দের এসআইআরের নামে হেনস্তা করা হচ্ছে অভিযোগ এনে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন তাঁরা। সেটার পরেও ছবিটা পালটায়নি। রহিম নবি, মেহতাব হোসেনদের তলব সমানে চলছে।
