ঐতিহাসিক জয়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গাও নিশ্চিত। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই পুরনো বিতর্কে ফের অস্বস্তিতে মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে গ্যালারির থেকে বিতর্কিত ‘পুতো’ স্লোগান শোনা যায়। বিষয়টা ফিফার নজরেও এসেছে। ফলে 'এল ট্রাই'দের শাস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুলিয়ান কিনিওনেস ও রাউল জিমেনেজের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নকআউটে মেক্সিকো। কোচ হাভিয়ের আগুইরের দল টানা চার ম্যাচ জিতেছে। শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির পর প্রথম দল হিসেবে টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে জয় ও ক্লিন শিটের নজির গড়েছে তারা।
একই ধরনের ঘটনার জন্য অতীতে একাধিকবার জরিমানার মুখে পড়েছে মেক্সিকো। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ, ২০১৮-র রাশিয়া কিংবা ২০২২-এর কাতার বিশ্বকাপেও একই ঘটনা দেখা গিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপেও সেই বিতর্ক এড়ানো গেল না। ম্যাচ চলাকালীন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক গোল কিক নেওয়ার সময় গ্যালারির একাংশ থেকে ভেসে আসে ‘পুতো’ স্লোগান। ফিফার মতে, স্প্যানিশ এই শব্দটি বৈষম্যমূলক ও সমকামীবিদ্বেষী। গ্যালারিতে এই ধরনের স্লোগান নিষিদ্ধ। তাই তাদের সামনে শাস্তির ভ্রূকুটি।
অতীতে এই ধরনের ঘটনায় শাস্তি পেয়েছিল মেক্সিকো। ২০২৪ সালে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, বলিভিয়া, আমেরিকার বিরুদ্ধে এমন স্লোগানের ঘটনায় বিরাট অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। পরে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট জরিমানা বহাল রাখলেও স্টেডিয়ামের একটি অংশ বন্ধ রাখার নির্দেশ খারিজ করে দেয়। অথচ এই প্রবণতা রুখতে বহুদিন ধরেই প্রচার চালাচ্ছে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ‘লা ওলা সি, এল গ্রিতো নো’ প্রচারও শুরু হয়েছিল। তাতে বলা হয়, 'মেক্সিকান ওয়েভ করুন, অপমানজনক স্লোগান নয়'। যদিও তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি।
অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের ঘটনা এবার ফিফার বৈষম্যবিরোধী নজরদারিতে। এই ঘটনায় নতুন করে তদন্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখন ফিফার হাতে। এর মধ্যেই শেষ ১৬-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে মেক্সিকো। তবে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক যে দলের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।
