১৩ বছর ধরে গভীর কোমায় শুয়ে ৩১ বছরের হরিশ রানা। চোখ খোলে না, কোনও প্রতিক্রিয়াও নেই। তবু শরীরের ভেতর নীরবে চলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নিষ্কৃতিমুক্তির অনুমতি দেয়। এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন- কোমা আসলে কী? আর এই অবস্থায় শরীরের কোন অঙ্গগুলো কাজ করে? ব্রেন ডেথের সঙ্গে কোমার পার্থক্য় কোথায়?
কোমা কী?
কোমা হল গভীর অচেতনত বা সংজ্ঞাহীন অবস্থা। এতে রোগী দীর্ঘ সময় ধরে অজ্ঞান থাকেন এবং আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন না। কথা বলা, চিন্তা করা বা বুঝে ওঠার মতো মস্তিষ্কের কার্যকলাপ তখন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে মস্তিষ্ক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। কিছু মৌলিক স্নায়বিক কাজ চালু থাকে বলেই শরীর বেঁচে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর রোগী কোমা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
ব্রেন ডেথের সঙ্গে পার্থক্য
কোমা এবং ব্রেন ডেথ এক জিনিস নয়। ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মস্তিষ্ক মৃত বলে ধরা হয় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা থাকে না। অন্যদিকে, কোমায় রোগী অচেতন থাকলেও মস্তিষ্কের কিছু মৌলিক অংশ কাজ করে। তাই সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
কোমায় থাকলেও যে অঙ্গগুলো কাজ করে
ব্রেনস্টেম: মস্তিষ্কের এই অংশটি শরীরের সবচেয়ে মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ। কোমার এই অংশটি অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকে।
হৃদপিণ্ড: কোমায় থাকলেও হৃদপিণ্ড ধুকপুক করতে থাকে এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন চালু রাখে।
পাচনতন্ত্র: রোগী নিজে খাবার গ্রহণ করতে না পারলেও ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবার দিলে শরীর তা হজম করতে পারে।
কিডনি: কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করার কাজ চালিয়ে যায়। তাই শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় থাকে।
নীরব, জটিল এক অবস্থা
কোমা এমন এক পরিস্থিতি যেখানে বাইরে থেকে সবকিছু নিস্তব্ধ মনে হলেও শরীরের ভেতরে চলতে থাকে জীবনের সূক্ষ্ম লড়াই। চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং সময়- এই তিনের উপরই নির্ভর করে রোগীর ভবিষ্যৎ।
চিকিৎসকদের মতে, কোমা বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অচেতন মানেই জীবনের সব কাজ থেমে যাওয়া নয়। শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা তখনও নীরবে কাজ করে যায়।
