shono
Advertisement
World TB Day

শুধু ফুসফুস নয়, শরীরের অন্য অঙ্গেও আঘাত হানে টিবি! বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসে ডাক্তারদের সতর্কবার্তা

যক্ষ্মা আজও আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু একে হারানো সম্ভব। যদি আমরা সচেতন হই, সঠিক তথ্য জানি এবং ভয় বা লজ্জা না পেয়ে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করি।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 04:38 PM Mar 24, 2026Updated: 04:38 PM Mar 24, 2026

আজ ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। প্রতি বছর বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস আমাদের এক অস্বস্তিকর সত্যের সামনে দাঁড় করায়। যক্ষ্মার উপস্থিতি এখনও আমাদের মধ্যে প্রবল। নতুন নতুন রোগের ভিড়ে হয়তো এই রোগ নিয়ে আলোচনা কম হয়, কিন্তু নীরবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে এটি, বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে।

Advertisement

সংখ্যাই তার প্রমাণ। বিশ্বজুড়ে এখনও কোটি কোটি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন, আর প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে। অথচ যক্ষ্মা প্রতিরোধযোগ্য, এমনকী সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্যও। তবুও লড়াইটা কঠিন হয়ে ওঠে তথ্যের অভাব, ভুল ধারণা আর অযথা ভয়কে ঘিরে।

কাটুক ভ্রান্ত ধারণার মেঘ। ছবি: সংগৃহীত

ভুল ধারণাই সবচেয়ে বড় বাধা
যক্ষ্মা বা টিবি নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা- এটি ছোঁয়াচে এবং সহজেই খাবার, বাসনপত্র বা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাস্তবটা কিন্তু একেবারেই আলাদা। এই রোগ মূলত বায়ুবাহিত সংক্রমণ। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তি কাশলে বা হাঁচলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর মাধ্যমেই যক্ষ্মার সংক্রমণ ছড়ায়, বিশেষ করে বদ্ধ ও ভিড় জায়গায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- সব টিবি রোগী সংক্রমণ ছড়ান না। যাঁদের শরীরে জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তাঁদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে না। এই পার্থক্যটা না বোঝার কারণেই অযথা ভয়, দূরত্ব আর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়।

শুধু ফুসফুস নয়, শরীরের অন্য অঙ্গেও আঘাত
আমাদের মধ্যে একটা সাধারণ ধারণা আছে- যক্ষ্মা মানেই ফুসফুসের রোগ। কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরের বহু অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। মেরুদণ্ড, কিডনি, লিম্ফ নোড, এমনকী মস্তিষ্কেও যক্ষ্মার সংক্রমণ হতে পারে। এই ধরনের যক্ষ্মা অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গগুলো তেমন মাথাচাড়া দেয় না বা দিলেও অনেকেই সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না।

সঠিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য। ছবি: সংগৃহীত

যক্ষ্মা শুধু গরিবের অসুখ নয়
অনেকে মনে করেন, যক্ষ্মা শুধুই গরিবের রোগ। তা কিন্তু নয়। ভিড়, অপুষ্টি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, ধূমপান, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এই সব কারণও যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে এই রোগ কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; যে কেউই আক্রান্ত হতে পারেন।

চিকিৎসা শুরু মানেই দায়িত্ব শেষ নয়
অনেকেই ভাবেন, একবার চিকিৎসা শুরু করলেই নিশ্চিন্ত। কিন্তু বাস্তবটা আরও কঠিন। চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ করলে রোগ ফের ফিরে আসতে পারে। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে ওষুধও কাজ করে না, দেখা দেয় জটিল ধরনের যক্ষ্মাও। তাই চিকিৎসা শুরুর পাশাপাশি, তা নিয়ম মেনে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনতাই পারে যক্ষ্মাকে হারাতে। ছবি: সংগৃহীত

লড়াইটা শুধু শরীরের নয়, মানসিকতারও
যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই শুধু হাসপাতালের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের সামাজিক মানসিকতা। অনেকেই এখনও লজ্জা বা ভয় থেকে রোগ লুকিয়ে রাখেন। ফলে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হয়, আর ততক্ষণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে আরও অনেকের মধ্যে।

মনে রাখুন
যক্ষ্মা আজও আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু একে হারানো সম্ভব। যদি আমরা সচেতন হই, সঠিক তথ্য জানি এবং ভয় বা লজ্জা না পেয়ে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement