শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমরা পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিই। কিন্তু সেই অতি-সতর্কতাই কি ক্ষতি ডেকে আনছে? সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণা সেই আশঙ্কাই উসকে দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা বা হাত ধোয়ার জন্য আমরা যে সব অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান বা লিকুইড ব্যবহার করি, সেগুলিই আসলে জন্ম দিচ্ছে অপ্রতিরোধ্য 'সুপারবাগ'-এর। যা সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ফাইল ছবি
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সাধারণ নির্মা বা সাবানের তুলনায় নামী ব্র্যান্ডের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পণ্যগুলি বাড়তি কোনও সুরক্ষা দেয় না। উলটে এগুলিতে থাকা রাসায়নিক উপাদান ব্যাকটেরিয়ার চারিত্রিক বদল ঘটাচ্ছে। 'এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে মূলত 'কোয়াটারনারি অ্যামোনিয়াম কম্পাউন্ড' এবং 'ক্লোরোক্সিলেনল'-এর মতো উপাদানের ক্ষতিকারক দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এই রাসায়নিকগুলি মূলত জীবাণুনাশক হিসেবে গৃহস্থালির ডিটারজেন্ট, হ্যান্ড ওয়াশ এবং ক্লিনিং স্প্রে-তে ব্যবহৃত হয়।
ফাইল ছবি
সমস্যাটা ঠিক কোথায়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যাকটেরিয়া যখন বারংবার এই শক্তিশালী রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। একেই বলা হচ্ছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ ব্যাকটেরিয়াগুলি শক্তিশালী হয়ে 'সুপারবাগে' পরিণত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে শরীরে কোনও সংক্রমণ হলে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করতে চায় না। যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ অসুস্থতা এমনকী মৃত্যুও।
ফাইল ছবি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে প্রাণ হারান। গবেষকদের দাবি, আমরা নিজের অজান্তেই বেসিন বা রান্নাঘরের কাউন্টার থেকে এই সংকটকে বাড়িয়ে তুলছি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের সাধারণ হাত ধোয়ার জন্য সাধারণ ক্ষারযুক্ত সাবান এবং জলই যথেষ্ট। অতিমারি বা বড় কোনও ছোঁয়াচে রোগ ছাড়া বাড়িতে কড়া জীবাণুনাশকের প্রয়োজন নেই বললেই চলে। একান্তই প্রয়োজনে ব্লিচ ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ তাতে ব্যাকটেরিয়ার এমন চরিত্র বদলের ঝুঁকি কম।
ফাইল ছবি
পরিচ্ছন্নতা জরুরি, কিন্তু তার আড়ালে রাসায়নিকের এই বাড়বাড়ন্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই বিজ্ঞাপনের চমকে ভুলে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পণ্য ব্যবহারের আগে একবার ভাবা প্রয়োজন। সাধারণ যাপনেই লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
