৩০ পেরলেই শরীরের ভিতর এক নিঃশব্দ পরিবর্তন শুরু হয়। বাইরে থেকে বোঝা যায় না, ওজনও হয়তো একই থাকে, কিন্তু ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে পেশি। কমতে থাকে পেশির পরিমাণ। এই বয়সজনিত পেশিক্ষয়কেই বলা হয় সারকোপেনিয়া। চিকিৎসকদের কথায়, ৩০ বছরের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ করে পেশি কমতে শুরু করে। বিষয়টি খুব ধীরে ঘটে বলে অনেকেই টের পান না। তবে বয়স ৬০ পেরোলে এই ক্ষয় আরও দ্রুত হতে পারে।
কেন সারকোপেনিয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়?
পেশি শুধু শক্তি জোগায় না, শরীরের বিপাকক্রিয়ার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পেশি কমে গেলে—
- মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়
- শরীরে মেদ জমতে শুরু করে
- দেখা দেয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
- ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে
- হাড় দুর্বল হয়
জরুরি নিয়মিত শরীরচর্চা। ছবি: সংগৃহীত
পেশি আসলে শরীরের সবচেয়ে বড় 'গ্লুকোজ স্পঞ্জ'। এটি রক্তের অতিরিক্ত শর্করা শোষণ করে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই পেশি কমা মানেই শুধু দুর্বলতা নয়, এতে রক্তে শর্করার ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেশিক্ষয় কিছুটা দ্রুত হতে পারে। তাই অনেককেই তখন বলতে শোনা যায়, আগের মতো জোর পাচ্ছি না, শরীর দুর্বল লাগছে।
প্রাথমিক লক্ষণ কী?
সারকোপেনিয়ার লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন একটা থাকে না। যেমন—
- সিঁড়ি ভাঙতে আগের চেয়ে বেশি হাঁপ ধরা
- শরীরের টোন কমে যাওয়া
- অকারণ ক্লান্তি
- দৈনন্দিন কাজে ক্লান্তি অনুভব করা
এ সব উপসর্গকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি, ভাবি স্বাভাবিক ক্লান্তি। কিন্তু বারবার হলে সতর্ক হওয়া দরকার।
শরীরকে সময় দিন, পেশিকে গুরুত্ব দিন। ছবি: সংগৃহীত
সমাধানের উপায়
এই প্রক্রিয়াকে অনেকটাই ধীর করা যায়—
- প্রতিদিন শরীরের ওজন অনুযায়ী, প্রতি কেজিতে ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ। অর্থাৎ, আপনার শরীরের ওজন যদি ৬০ কেজি হয়, তাহলে প্রতিদিন প্রোটিনের প্রয়োজন ৭২ থেকে ৯৬ গ্রাম
- নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বা দ্রুত হাঁটা
- পর্যাপ্ত ঘুম
- ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা
- গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সেও নিয়মিত ব্যায়াম পেশির শক্তি ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩০ পেরলেই সতর্ক হোন। শরীরকে সময় দিন, পেশিকে গুরুত্ব দিন। তবেই দীর্ঘদিন সুস্থ, সক্রিয় থাকা সম্ভব।
