ফুসফুসের যত্ন মানে শুধু ভালোভাবে শ্বাস নেওয়া নয়। প্রতিটি শ্বাস হৃদ্যন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, ওজন এমনকী মস্তিষ্কের উপরও প্রভাব ফেলে। কিন্তু শেষ কবে আপনি ভেবেছেন, আপনার ফুসফুস ঠিকমতো কাজ করছে তো? চিন্তার কিছু নেই। বাড়িতে বসেই কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি নিজের ফুসফুসের ক্ষমতা (Lungs Health) সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন।
বোতল টেস্ট
এই পরীক্ষায় বোঝা যায় আপনি একবারে কতটা বাতাস বের করতে পারেন, যাকে বলা হয় ফোর্সড ভাইটাল ক্যাপাসিটি (FVC)।
যা লাগবে
- ৩ থেকে ৫ লিটারের একটি বড় প্লাস্টিকের বোতল
- একটি বালতি বা টব
- একটি রাবারের পাইপ
বোতল টেস্ট। ছবি: সংগৃহীত
কী করবেন?
- প্রথমে বোতলে ২০০ মি.লি. করে জল ঢেলে প্রতিবার একটি করে দাগ টানুন। এভাবে পুরো বোতল ভর্তি করুন।
- এরপর একটি বালতি বা টব অর্ধেক জল দিয়ে ভরুন। বোতলটি উল্টো করে জলের মধ্যে ডুবিয়ে ধরুন।
- এবার পাইপের এক প্রান্ত বোতলে ঢুকিয়ে অন্য প্রান্ত দিয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে জোরে ফুঁ দিন।
ফলাফল
- প্রতিটি দাগ = ২০০ মি.লি.
- যতগুলো দাগ পর্যন্ত জল বের করতে পারবেন × ২০০ = আপনার ফোর্সড ভাইটাল ক্যাপাসিটি (FVC)
- স্বাভাবিকভাবে ৩ থেকে ৫ লিটার হলে ফুসফুসের ক্ষমতা ভালো ধরা হয়
এক্সহেল টেস্ট
কী করবেন?
- গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন এবং সময় গুনুন
- অন্তত ১১ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়তে পারলে ভালো
ফুসফুসের ক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বয়স বাড়ার সঙ্গে ফুসফুসের ক্ষমতা কিছুটা কমে, এটা স্বাভাবিক। গড়ে প্রতি দশকে প্রায় ০.২ লিটার কমতে পারে। তবে এই কমার হার যদি বেশি হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত ২০-এর কোঠায় ফুসফুসের ক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে, তারপর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে ফুসফুস ভালো রাখবেন?
- টেস্ট করান: প্রতি ১০ বছরে অন্তত একবার লাং ফাংশন টেস্ট (LFT) করানো ভালো
- শ্বাসকষ্ট থাকলে দেরি না করে দ্রুত পরীক্ষা করান। এই পরীক্ষায় স্পাইরোমিটার দিয়ে শ্বাসের গতি ও পরিমাণ মাপা হয়।
- নিয়মিত শরীরচর্চা: ব্যায়াম ফুসফুসের পেশিকে শক্তিশালী করে, সহনশীলতা বাড়ায় এবং শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
- ধূমপান একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
- সঠিক ডায়েট: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে রাখুন। এগুলো ফুসফুসকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। বেশি নুন খেলে ফুসফুসে প্রদাহ ও ফাইব্রোসিসের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নুন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পেটের চর্বি বেশি হলে ফুসফুস পুরোপুরি প্রসারিত হতে পারে না। ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।
- গান গাওয়া: দীর্ঘ সময় ধরে গান গাওয়া শ্বাস নিয়ন্ত্রণ, ডায়াফ্রাম ও বুকের পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।
- শ্বাসের ব্যায়াম: ইনস্পিরেটরি মাসল ট্রেনিং ফুসফুসের পেশিকে আরও শক্তিশালী করে।
ছবি: সংগৃহীত
কখন সতর্ক হবেন?
- হাঁটলেই বা সিঁড়ি ভাঙলেই দম ফুরিয়ে যাওয়া
- দীর্ঘক্ষণ শ্বাস ছাড়তে না পারলে
- হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বাড়লে
এই লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঘরে বসে এই ছোট পরীক্ষাগুলো আপনার ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে একটি ধারণা দিতে পারে। তবে এগুলো চূড়ান্ত মেডিক্যাল পরীক্ষা নয়। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে নজর দিন। কারণ সুস্থ ফুসফুসই সুস্থ জীবনের ভিত্তি।
