আধুনিক গতির জীবনে বাড়ছে লাইফস্টাইলজনিত অসুখ। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা- এখন ঘরে ঘরে। এগুলো এখন শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নতুন যোগ-প্রোটোকল লাইফস্টাইলজনিত অসুখ প্রতিরোধে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই- অসুখ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং আগে থেকেই শরীরকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে অসুখের ঝুঁকি কমে।
কেন এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি?
ভারতে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশই ঘটে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের কারণে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ, ডায়াবেটিস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন- সব মিলিয়ে এই রোগগুলির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। তাই সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের অস্ত্র হিসেবে যোগাভ্যাসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিদিং এক্সারসাইজ। ছবি: সংগৃহীত
নতুন যোগ প্রোটোকলে কী থাকছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সহযোগিতায় তৈরি এই প্রোটোকল এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে যে কেউ সহজে তা অনুসরণ করতে পারেন। প্রতিটি রোগের জন্য আলাদা করে যোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-
ডায়াবেটিস: মেটাবলিজম ঠিক রাখা ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক আসন ও প্রাণায়াম।
উচ্চ রক্তচাপ: স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এমন অনুশীলন।
অ্যাজমা: ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়াতে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিশেষ ব্যায়াম।
মানসিক সুস্থতা: ধ্যান ও প্রণায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমানোর কৌশল।
শুধু রোগ নয়, বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ীও রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। শিশুদের জন্য খেলাধুলোর মাধ্য়মে যোগ, প্রবীণদের জন্য হালকা যোগ এবং নারী ও গর্ভবতী মায়েদের জন্যও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে যোগের রুটিন।
যোগ পরিণত হোক প্রতিদিনের অভ্যেসে। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ- এই বদলটাই মূল
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় শক্তি এর ভাবনায়। হাসপাতাল নয়, ঘরই হয়ে উঠবে সুস্থতার জায়গা। প্রতিদিন অল্প সময়ের নিয়মিত অনুশীলনই হতে পারে বড় রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। এতে শুধু শরীর নয়, মনও থাকবে ফুরফুরে। আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব জানিয়েছেন, এই যোগগুলো মানুষের হাতে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলে দেবে।
যোগ ৩৬৫: একদিন নয়, প্রতিদিন
যোগকে বছরে একদিনের অনুষ্ঠানে, অর্থাৎ, বিশ্ব যোগ দিবসে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছরের অভ্যেসে পরিণত করতে শুরু হয়েছে 'যোগ ৩৬৫' ক্যাম্পেইন। স্কুল-কলেজ, অফিস, এমনকী অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এই উদ্যোগের কথা। ফলে শহর থেকে গ্রাম- সব জায়গাতেই সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে যোগ। এছাড়া, মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগ একটি ওয়েলনেস প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিদিন বিনামূল্যে অনলাইন যোগ সেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যখরচ ও লাইফস্টাইলজনিত অসুখের ঝুঁকির মধ্যে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মেলবন্ধনে তৈরি এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নিয়মিত অনুশীলন, সচেতন জীবনযাপন আর সামান্য সময়- এই তিনেই লুকিয়ে বড় অসুখ থেকে মুক্তির চাবিকাঠি।
