কাকা শরদ পওয়ারের সঙ্গে 'ঘড়ি' নিয়েই যত লড়াই ছিল। তা গড়িয়েছিল আদালতেও। পরে শরদের ঘড়ির দখলও নিয়েছিলেন ভাইপো অজিত পওয়ার। ঘটনাচক্রে, বুধবার বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনার পর সেই ঘড়িই চিনিয়ে দেয় অজিতের দেহ!
বুধবার সকালে বারামতিতে ভিএসআর ভেঞ্চার্সের লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি রানওয়েতে আছড়ে পড়ার পরে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, তাতে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিতের দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে, প্রাথমিক ভাবে তাঁকে শনাক্ত করার উপায়ই ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চার-পাঁচটি বিস্ফোরণের তীব্রতায় বিমানটি এবং আরোহীরা কার্যত ভস্মীভূত হয়ে যান। উদ্ধারকারী দল ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত অজিতের হাতে থাকা ঘড়িটিই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করার একমাত্র সূত্র। যদি ওই ঘড়িটি না থাকত, তবে ডিএনএ পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়া তাঁকে তাৎক্ষণিক ভাবে শনাক্ত করা একপ্রকার অসম্ভব হত।
২০২৩ সালের ২ জুলাই এনসিপিতে বিদ্রোহ ঘটিয়ে শরদের অমতেই বিজেপির হাত ধরেছিলেন অজিত। এনসিপি-তে ভাঙনের মামলা যায় আদালতে। কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এনসিপির নিয়ন্ত্রণ যায় অজিতের হাতেই। দলের নাম নির্বাচনী প্রতীক ঘড়ির তাঁর গোষ্ঠীর জন্যই বরাদ্দ করা হয়। শরদের নেতৃত্বাধীন এনসিপি পরিচিত হয় এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) নামে। নির্বাচনী প্রতীক হয় ‘তুতারি’ (পশ্চিমি বাদ্যযন্ত্র ট্রাম্পেটের মারাঠি সংস্করণ)।
প্রসঙ্গত, বুধবার মুম্বই থেকে সকাল ৮টা বেজে ১০ মিনিটে বারামতির উদ্দেশে রওনা দেয় অজিতের বিমান। বিমানের গতিবিধি নজরদার সংস্থা ফ্লাইটরেডার২৪ জানিয়েছে, তার পর সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে বিমানটি সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। যদিও তা কিছুক্ষণের জন্যই। তার পরেই আবার বিমানটির সংকেত মিলতে শুরু করে। এর পর সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে আবার সব নিস্তব্ধ! অনুমান, সেই সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি।
বিমানটিতে অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ জানাচ্ছে, দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি দল বারামতি বিমানবন্দরে পাঠাচ্ছে ডিজিসিএ।
