আবগারি কেলেঙ্কারিতে মুক্তি পেয়েই এবার কার্যত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ার। বলেন, “রাজধানীতে আবার নির্বাচন করুন। বিজেপি ১০টির বেশি আসন পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
শুক্রবার আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়াল এবং দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে মুক্তি দেয় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে়, দিল্লির তথাকথিত বিতর্কিত আবগারি নীতিতে কোনওরকম অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র ছিল না। তা প্রমাণ করতে পারেনি সিবিআই।
এরপরই এদিন সংবাদিক বৈঠক করেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপিকে আক্রমণ করে কেজরিওয়াল বলেন, “গোটা দিল্লি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ক্ষমতার লোভের সবচেয়ে বড় পরিণতি দিল্লির তিন কোটি মানুষ ভোগ করেছেন। দিল্লির মানুষকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছি - যদি সাহস থাকে, তাহলে আবার দিল্লিতে নির্বাচন করুন। বিজেপি যদি ১০টির বেশি আসন পায়, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। দিল্লির মানুষ আপনাদের উপর বিরক্ত।”
২০২৫ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল আবগারি দুর্নীতি। বিজেপির অভিযোগ ছিল, দিল্লিতে আপ যে আবগারি নীতি চালু করেছিল তা রাজধানীর কোষাগারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্তত ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে দিল্লি সরকারের। তাতে মূল অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াকে। সব মিলিয়ে ২৩ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করে সিবিআই। সরাসরি অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে আম আদমি পার্টিকে। যা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এই মামলায় জেলে যেতে হয় কেজরিওয়ালকে। জেল থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রিত্বও ছাড়েন তিনি। মণীশ সিসোদিয়া-সহ দিল্লির একাধিক মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত চলাকালীন সিবিআই কারও বিরুদ্ধেই পোক্ত প্রমাণ দিতে পারেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণও জোগাড় করা যায়নি। আর কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছিল স্রেফ ধারণার ভিত্তিতে। রাউজ এভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই মামলার বেশিরভাগটাই সাজানো হয়েছে রাজসাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে। সেটা করা যায় না। সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক কূলদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।
