রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রোটোকল ভাঙা হল কেন? সেই বিষয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে ওই রিপোর্ট তলব করেছে অমিত শাহের মন্ত্রক। এদিনই বিকেল পাঁচটার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল, শনিবার বঙ্গসফরে এসেছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। পরে খোদ রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী অথবা অন্য কোনও মন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছিলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোটবোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও।” এই বক্তব্যের পরেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক আক্রমণ প্রতি আক্রমণ। এই ঘটনা নিয়ে আসরে নেমে পড়ে বিজেপি। অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
যদিও গতকাল, শনিবার সন্ধ্যাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে জবাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "ওঁর (দ্রৌপদী মুর্মু) আজকের অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতামই না। এটা কোনও সরকারি অনুষ্ঠান তো নয়, সম্পূর্ণ বেসরকারি। রাজ্যের কোনও ভূমিকা নেই। আমরা কী করব এখানে? আমি এখন ধরনায় আছি। মানুষ ভোটাধিকার হারাচ্ছেন, তাঁদের হয়ে লড়াই করছি। এখন তো এটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। আপনি বিজেপির অগ্রাধিকার হতে পারেন, আমার কাছে আমার জনতাই সব।” বিজেপিকে তোপ দেগে মমতার আরও কড়া বার্তা, ”দেশের ১ নং নাগরিক, সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান, শ্রদ্ধার মানুষ, আমরা তাঁকে সম্মান করি। বিজেপি তাঁকেও এখানে রাজনীতি করতে পাঠিয়ে দিল!”
যদিও ঘটনার জল অনেক দূর গড়াতে পারে, তেমনই মনে করেছিল রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়েছিলেন। এবার খোদ অমিত শাহের মন্ত্রক থেকে রাজ্যের কাছে বার্তা চাওয়া হল। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের তরফ থেকে রবিবার সকালে নবান্নে একটি বার্তা এসেছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে গোটা ঘটনা নিয়ে বার্তা চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে ঠিক কী ঘটেছে, প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল? এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। আজ, রবিবারই বিকেল পাঁচটার মধ্যে মুখ্যসচিবকে এই বিষয়ে লিখিত রিপোর্ট দিতে হবে বলে খবর।
