সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের পরিচ্ছন্নতম শহর ইন্দোরে নলবাহিত জল পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে। এখনও হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দেড়শো মানুষ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যটির এই শহরের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কেন এত বেশি কর দেওয়ার পরও এই পরিস্থিতিতে পড়তে হল। ৬ মাসের সন্তানকে হারানো এক মা বলছেন, ''আর কত শিশুকে প্রাণ দিতে হবে এই দূষিত জলের কারণে?''
ইন্দোরের ভগীরথপুরা এলাকায় নলবাহিত জল পান করে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন অসংখ্য মানুষ। মৃতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সাত! মৃতদের মধ্যে রয়েছে একরত্তি শিশুও। শিশুটির মা সাধনা সাহু বলছেন, ''আমি আমার শিশুকে হারিয়েছি। আমি জানি না এই দূষিত জল আরও কত শিশু প্রাণ হারাবে?'' সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হতে পারছিলেন না। দশ বছর ধরে চিকিৎসা করার পর অবশেষে কোলে এসেছিল এই শিশুটি। শারীরিক জটিলতার কারণেই সন্তানকে প্যাকেটজাত দুধ খাওয়াতে হচ্ছিল। দাবি, নলের জলে দুধ মেশানোর পর তা পান করানো হচ্ছিল শিশুটিকে। এরপরই সে ক্রমাগত বমি করতে থাকে। শুরু হয় পেটের সমস্যাও। শেষপর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
জানা গিয়েছে, নলবাহিত জলে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। জলের স্বাদও ছিল কটু। কিন্তু অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এত বেশি কর দিয়েও কেন সরকারি পরিষেবার এই হাল।
কিন্তু কী কারণে পানীয় জলে বিষক্রিয়া হল? পুর কমিশনার দিলীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, এলাকার মূল জল সরবরাহের পাইপলাইনে একটি লিকেজ শনাক্ত করা গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেই পাইপলাইনের কাছেই সম্প্রতি একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। অনুমান, সেখান থেকেই পানীয় জলে বিষক্রিয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। আপাতত সকলকে জল ফুটিয়ে খাওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।
