সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গর্ভপাত করানোর ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বার ইচ্ছা এবং সম্মতিই বিবেচনাযোগ্য মূল বিষয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের এক মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ। মামলাকারী তরুণীকে তাঁর স্বামীর সম্মতি ছাড়াই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২১ বছর বয়সি ওই তরুণী ২ মে বিয়ে করেছিলেন এক ব্যক্তিকে।
জানা গিয়েছে, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু দাম্পত্য সমস্যায় জেরবার হয়ে তিনি এখন চান গর্ভপাত করাতে। যদিও তাঁর স্বামীর এতে সায় নেই। এই পরিস্থিতিতে তরুণী হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানি চলাকালীন একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। সেই বোর্ড খতিয়ে দেখে তরুণীর শারীরিক অবস্থা। যা থেকে বোঝা সম্ভব গর্ভপাতে তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে কিনা। বোর্ড অবশ্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানিয়ে দেয় ওই তরুণীর গর্ভপাতে কোনও সমস্যা নেই।
রিপোর্টে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে গর্ভের ভ্রূণটি ১৬ সপ্তাহের। সেটির গঠনগত কোনও সমস্যাও নেই। তবে গত ৬ মাস ধরে ওই তরুণী উৎকণ্ঠা ও অবসাদে ভুগছেন বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। ডিভোর্সের মামলা চলাকালীন অবস্থায় নিজের গর্ভস্থ সন্তানকে নিয়ে তিনি অত্যন্ত বিচলিত। সেই কারণে মনোবিদের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে তাঁর। তবে মানসিক সমস্যা থাকলেও শারীরিক দিক থেকে তাঁর গর্ভপাত করানো যেতেই পারে।
বিচারপিত সুবীর সেহগলের বেঞ্চ এরপর জানিয়ে দেয়, রিপোর্ট অনুসারে তরুণীর গর্ভপাতে সমস্যা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এক্ষেত্রে একমাত্র প্রশ্ন হল, এই ধরনের গর্ভপাতের আগে কি স্বামীর সম্মতি প্রয়োজন? ১৯৭১ সালের গর্ভপাত আইনে স্বামীর স্পষ্ট বা পরোক্ষ সম্মতির বিধান নেই একথা উল্লেখ করে বেঞ্চ। ফলে এক্ষেত্রে তরুণীর ইচ্ছাতেই তাঁর গর্ভপাত করানো যেতে পারে। এই মামলায় স্বামীর অনুমতির বিষয়টি একেবারেই গুরুত্বহীন বলেও জানিয়েছে উচ্চ আদালত। এরপরই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয় ওই তরুণীকে।
