ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে ভারতীয় অর্থনীতিতে। তবে যুদ্ধের জেরে অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা এখনও টের পেতে হয়নি আমজনতাকে। পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই আমজনতার পকেট কাটা শুরু করবে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। এমনটাই দাবি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। তিনি বলছেন, ভোট মিটতেই একযোগে বাড়বে পেট্রল-ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে শনিবার সোশাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী দাবি করলেন, 'ডলারের তুলনায় টাকার দুর্বল হয়ে ১০০-এর কাছাকাছি পৌঁছানো এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত জ্বালানির দামে তীব্র বৃদ্ধি শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং আসন্ন মুদ্রাস্ফীতির স্পষ্ট লক্ষণ।' বিরোধী দলনেতার দাবি, এই পরিস্থিতিকে সরকার হয়তো 'স্বাভাবিক' বলে দাবি করবে, কিন্তু বাস্তব হল, উৎপাদন ও পরিবহণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বিদায় নেবেন, ফলে শেয়ার বাজারের উপর চাপ বাড়বে।'
এরপরই রাহুল সাফ বলে দেন, দেশের বর্তমান যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সেটা প্রতিটি পরিবারের পকেটের উপর সরাসরি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবেই। আর এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনের পর পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দামও বাড়ানো হবে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মোদি সরকারের কোনও সুদূরপ্রসারী ভাবনা নেই, কোনও কৌশল নেই। সরকার শুধু বিবৃতি দেয়। তবে সরকার কী বলছে তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল আপনার পাতে কী পড়ছে।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। হরমুজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চাপ পড়েছে ভারতের উপরও। ইতিমধ্যেই এলপিজির দাম বেড়েছে। বেড়েছে প্রিমিয়াম পেট্রলের দামও। তবে এখনও সাধারণ পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। রাহুল গান্ধীর দাবি, ভোটের জন্যই দামবৃদ্ধি আটকে। ভোট পেরলেই সেটা বেড়ে যাবে।
