সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ধরনের স্লোগান দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাস চত্বরে হিংসা, বেআইনি এবং দেশ-বিরোধী কার্যকলাপের কোনও জায়গা নেই। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা এধরনের ঘটনায় জড়িত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেএনইউ।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই দাঙ্গার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও দাঙ্গা সংঘটিত করার ক্ষেত্রে খালিদ এবং ইমামের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। যদিও তাঁদের সঙ্গে জেলবন্দি বাকি ৫ জনকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খালিদের জামিন খারিজ হওয়ার পর, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সেখানকার পড়ুয়ারা। স্লোগান তোলা হয়, ‘জেএনইউ কী ধরতী পর মোদি-শাহ কী কবর খুদেগী।’ অর্থাৎ ‘জেএনইউ-এর মাটিতেই মোদি-শাহের কবর খোঁড়া হবে।’ মুহূর্তের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এই স্লোগান।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তাদের এক্স হ্যান্ডলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘জেএনইউ ক্যাম্পাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও রকম স্লোগান তোলা যাবে না। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা এধরনের স্লোগান দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবন এবং নতুন ধারণার কেন্দ্র। ঘৃণা ছড়ানোর জায়গা নয়। বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশ একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু তার নামে ক্যাম্পাসে কোনও হিংসা, বেআইনি এবং দেশ-বিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা এধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে।’
এদিকে জেএনইউ ক্যাম্পাসে মোদি-বিরোধী স্লোগানে ক্ষুব্ধ বিজেপিও। মঙ্গলবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, “জেএনইউ টুকরে টুকরে গ্যাং, আরজেডি, তৃণমূল, বাম দল ও রাহুল গান্ধীর মতো দেশবিরোধী মানসিকতার লোকের কার্যালয় হয়ে উঠেছে। ওদের মনে রাখা উচিত এটা ভারত এবং একবিংশ শতাব্দীর নরেন্দ্র মোদির ভারত। বিবেকানন্দ বলেছিলেন গেরুয়া রং-ই থাকবে। আমি এইসব টুকরে টুকরে গ্যাংকে বলতে চাই, যারা উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে সমর্থন করে, যারা পাকিস্তানের মানসিকতায় বিশ্বাস করে যারা চিকেন নেক আলাদা করার কথা বলে, তাঁরা দেশদ্রোহী।”
