৩২ বছর পুরনো খুনের মামলায় গ্রেপ্তার জনপ্রিয় ইউটিউবার সেলিম ওয়াস্টিক। নাবালককে অপহরণ ও খুনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এই ইউটিউবার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। প্যারলে বেরিয়ে আর ফেরেননি। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সালটা ১৯৯৫। গাজিয়াবাদের এক সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ছেলেকে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয় সেলিম খান ওরফে সেলিম ওয়াস্টিককে। তিনি সেই সময় দরিয়াগঞ্জের রামজাস স্কুলের মার্শাল আর্টের শিক্ষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। নাবালককে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা সেলিম ও তার সহযোগীকে। আদালত যাবজ্জীবন সাজা দেয়। তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন। পরে প্যারোলে বেরিয়ে আর ফেরননি। পুলিশের খাতায় পলাতক আসামী হিসাবে নাম ছিল তার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৫ সালের ২০ জানুয়ারি সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণ করা হয়। ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করে সেলিম ও তার সহযোগী। টাকা রেখে যাওয়ার স্থান বলে দেয় তারা। পাশাপাশি হুমকি দেয় পুলিশকে জানালে নাবালককে খুন করা হবে। পুলিশকে বিষয়টি জানায় নাবালকের পরিবার। তদন্তের পর নাবালকের দেহ নর্দমা থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে সেলিমের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে অপরাধের কথা স্বীকার করে। জেরাতে সেলিমের নাম উঠে আসে। তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দু’জনকেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে ২০০০ সালে সেলিম দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অস্থায়ী জামিন পায় ৷ কিন্তু সে আর জেলে ফিরে আসেনি।
এর মাঝেই পরিচয় গোপন করে সেলিম আহমেদ নাম নিয়ে থাকতে শুরু করে। পরে ইউটিউবার এবং ‘সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট’ হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করে। পুলিশের মতে, অভিযুক্ত সেলিম হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় ৷ এরপরে উত্তরপ্রদেশের লোনিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। যেখানে সে মহিলাদের পোশাকের দোকান চালাত। চলতি মাসে সেলিমের বাড়িতে ঢুকে কয়েকজন দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। গুরুতর আহত হয় সে। এদিকে পুলিশ পুরনো ছবি, আঙুলের ছাপ সব খতিয়ে বুঝতে পারে সেলিম ওয়াস্টিকই ১৯৯৫ সালে খুনের অপরাধে যুক্ত পলাতক সেলিম খান। তারপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
