কসবা আইন কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ডে (Kasba Case) চার্জগঠন করল পুলিশ। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ওরফে ম্যাঙ্গো, জায়েব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়েছে। বুধবার আলিপুর আদালতে চার্জগঠনের সময় আদালতে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী পিনাকির আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য ও বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, আটকে রেখে প্রাণে মেরে রাখার হুমকি, মোবাইল ফোনে ব্ল্যাকমেল করার জন্য রেকর্ডিং-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় সাক্ষী মোট ৮৩ জন। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ।
গত বছরের ২৫ জুন, কসবার আইন কলেজের মধ্যেই গণধর্ষণের অভিযোগ তোলেন এক ছাত্রী। কলেজের ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন নেতা মনোজিৎ মিশ্র ও তার সাগরেদদের বিরুদ্ধ অভিযোগ তোলা হয়। ওই দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগও ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। পাশাপাশি, শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের সদস্য এতে জড়িত বলেও অভিযোগের আঙুল ওঠে। যদিও সেসময়ই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র কলেজ এবং ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তনী। তাকে টিএমসিপি সাসপেন্ডও করেছে।
এই ঘটনার গোড়া থেকেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। ঘটনার ৫৮ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করা হয়। ওই চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল মনোজিৎ মিশ্রর। এছাড়া প্রমিত মুখোপাধ্যায়, জেব আহমেদ এবং কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ছিল অভিযুক্ত হিসেবে। ওই চার্জশিটে উল্লেখ ছিল, গার্ডরুমের ভিতর মনোজিৎ মিশ্র নির্যাতিতা ছাত্রীকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করে। সেই দৃশ্য মনোজিৎ নিজের মোবাইল ক্যামেরায় তুলে রাখে। এরপর সে ওই ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে নির্যাতিতাকে বলে, এই ফুটেজ সে সবাইকে পাঠিয়ে দেবে। তাঁর সম্মান বলে কিছু থাকবে না। একমাত্র তিনি মনোজিতের কথামতো শারীরিক চাহিদা মেটালে সে ছাড় দিতে পারে। এরপর নির্যাতিতার আর কিছু করার ছিল না। সে সুযোগ বুঝেই ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। চার্জশিটে বলা হয়, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোজিতের কুকীর্তির ভিডিও জায়েব ও প্রমিত গার্ডরুমের ঘুলঘুলি তথা এক্সহস্ট ফ্যানের গর্ত দিয়ে দফায় দফায় তুলে রাখে। নির্যাতিতাকে মনোজিতের হুমকি থেকে শুরু করে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়। বিভিন্ন ভিডিওয় এক্সহস্ট ফ্যানের পাখার অংশও দেখা গিয়েছে। ওই ভিডিওগুলি তিনজনই তাদের কয়েকজন সঙ্গীকেও পাঠিয়েছিল। মনোজিৎ, জায়েব ও প্রমিতের তোলা ভিডিওগুলির ফরেনসিক রিপোর্টও পুলিশের হাতে এসেছে আগেই। পুলিশের মতে, সেসব খতিয়ে দেখে চার্জগঠন করা হয়েছে।
