পেটের মধ্যে আস্ত শিবলিঙ্গ! তাও আবার পারদের। এস্করে করতেই চক্ষুচড়কগাছ ডাক্তারবাবুর। এখন উপায়? কারণ, সে যে মানুষ নয়। চারপেয়ে আদরের পোষ্য। শুরু হয় চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ। চিকিৎসক জানিয়ে দিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার ছাড়া গতি নেই। শেষপর্যন্ত রাতেই হল অস্ত্রোপচার। রাতভর অস্ত্রোপচারের পর পেট থেকে বার করা হল ওই শিবলিঙ্গ। বিপন্মুক্ত ওই পোষ্য। খাস কলকাতায় ঘটল এমন ঘটনা।
জানা গিয়েছে, বাগুইআঁটির চালপট্টি এলাকায় থাকে ওই চন্দ পরিবার। পরিবারের কর্তা রাজীব চন্দ। ওই পরিবারের সকলেই প্রত্যেকেই কুকুর ভালোবাসেন। বাড়িতে ১০ মাসের একটি পোষ্য গোল্ডেন রিট্রিভার রয়েছে। দিনভর দস্যিপনা করে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখে সে। কিন্তু দু'দিন আগেই ঘটে বিপত্তি। মেয়ের নাচের অনুষ্ঠান দেখতে বাড়ির সকলে সেখানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিল ওই পোষ্য। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে প্রাথমিকভাবে তেমন কিছু মনে হয়নি পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু ঠাকুরের আসনে চোখ যেতেই ভাঁজ পড়ে কপালে। আসনে যে একটি পারদের শিবলিঙ্গ ছিল। সেটি সেখানে নেই! তাহলে কি পোষ্য সেটি লুকিয়ে রেখেছে?
বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি ওই শিবলিঙ্গ। এদিকে আদরের পোষ্যের মধ্যে তেমন কোনও সমস্যাও দেখা যায়নি। তবে মনের ভিতর খচখচ করছিল পরিবারের সদস্যদের। সেই সন্দেহেই এক পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর পরামর্শেই সারমেয়র পেটের এক্সরে করা হয়। সেই রিপোর্ট এলেই মাথায় আকাশ ভাঙে ওই পরিবারের। এক্সরে রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, পেটের ভিতর জ্বলজ্বল করছে ওই শিবলিঙ্গ। এখন উপায়? চিকিৎসক পেট থেকে সেটি বার করার জন্য ওষুধ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি।
অস্ত্রোপচারের পর বিপন্মুক্ত সারমেয়।
এদিকে ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছিল। অন্য এক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অস্ত্রোপচার করেই সেটি বার করা হবে। প্রথাগত উপায়ে এন্ডোস্কোপি করে তা বের করা সম্ভব ছিল না। কারণ, এন্ডোস্কোপিতে এনাস্থেশিয়া করার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ বিক্রিয়া করলে প্রাণ সংশয় হবে পোষ্যের। অতঃপর খোঁজ চলে সার্জনের। পোষ্যর পরিবারই এক সরকারি প্রাণী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে। দেশপ্রিয় পার্কের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রাত নটা থেকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। শেষ হয় রাত দেড়টা নাগাদ। অস্ত্রোপচার সফল শুনে কার্যত ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে ওই পরিবারের। পোষ্যটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে বলে খবর। এই গোটা প্রক্রিয়া অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ও জটিল ছিল বলে খবর।
