উত্তর কলকাতার চিৎপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এক নাবালিকা। এলাকারই এক তরুণ তাঁকে অপহরণ করে চণ্ডীগড় নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁকে সেখানে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়! পরে ফের ওই নাবালিকাকে কলকাতা নিয়ে আসা হচ্ছিল। সেই কথা জানতে পেরেই পুলিশ হাওড়া স্টেশনে জাল পাতে। গ্রেপ্তার হল অভিযুক্ত। উদ্ধার হল ওই নাবালিকা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কয়েক দিন আগে চিৎপুর এলাকার বাসিন্দা এক কিশোরী নিখোঁজ হয়ে যায়। কোথাও কোনও খবর না পেয়ে ওই পরিবার চিৎপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে এলাকার এক তরুণ ওই কিশোরীকে অপহরণ করায় অভিযুক্ত। এরপর সেই তরুণের খোঁজ শুরু হয়।
এরপর তদন্তকারীরা জানতে পারে ওই তরুণ কিশোরীকে চণ্ডীগড় নিয়ে গিয়েছে। এরপরই চণ্ডীগড়ে কোথায় তারা আছেন, কীভাবে কিশোরীকে আটকে রাখা হয়েছে? সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন তাঁরা। আন্দাজ পেয়েই চণ্ডীগর যাওয়ার জন্য চিৎপুর থানার পুলিশ সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এর মধ্যেই পুলিশের কাছে খবর আসে ওই কিশোরীকে নিয়ে তরুণ কলকাতা আসার ট্রেন ধরেছে। নাবালিকাকে নিয়ে হাওড়া নামবে অভিযুক্ত একথা জানার পরে তৎপর হয় পুলিশ। অভিযুক্তকে পাকড়াও ও কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য হাওড়া স্টেশনে পাতা হয় ফাঁদ। সেই ফাঁদেই ধরা পড়ল অভিযুক্ত।
জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশনে নেমে কিশোরীকে নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার ভাবনা ছিল অভিযুক্তের। কিন্তু পুলিশ যে তাকে ঘিরে নিয়েছে, সেই আন্দাজ হয়নি। হাওড়া স্টেশনেই পাকড়াও করা হয় ওই অভিযুক্তকে। উদ্ধার করা হয় কিশোরীকেও। পরে পুলিশের কাছে ওই কিশোরী জানিয়েছে, চণ্ডীগড়ে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে তার ধর্ষণ করা হয়েছে! এরপরই ওই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করে পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু করেছেন তদন্তকারীরা।
