shono
Advertisement
West Bengal Assembly Election

সকাল-বিকেল নির্বাচনের প্রচার, ভোটের বাদ্যিতে পোয়াবারো ব্যান্ড-তাসা পার্টির

চৈত্রমাস মলমাসের রেশ থাকে কাটেনি। উৎসবের মরশুম নয়, এ সময়ে বিয়ের অনুষ্ঠান যেমন থাকে না, তেমনই পুজো-পার্বণও গুটিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতায়। ঢাক, ব্যান্ডপার্টি, তাসার দলগুলি কাজ হারিয়ে তখন বেকার! এই অবস্থায় এবার এই মলমাসেও বাজতে শুরু করেছে ব্যান্ডপার্টি ও তাসার দলের মূর্ছনা! সৌজন্যে বিধানসভা নির্বাচন।
Published By: Suhrid DasPosted: 02:50 PM Apr 17, 2026Updated: 04:42 PM Apr 17, 2026

চৈত্রমাস মলমাসের রেশ থাকে কাটেনি। উৎসবের মরশুম নয়, এ সময়ে বিয়ের অনুষ্ঠান যেমন থাকে না, তেমনই পুজো-পার্বণও গুটিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতায়। ঢাক, ব্যান্ডপার্টি, তাসার দলগুলি কাজ হারিয়ে তখন বেকার! এই অবস্থায় এবার এই মলমাসেও বাজতে শুরু করেছে ব্যান্ডপার্টি ও তাসার দলের মূর্ছনা! সৌজন্যে বিধানসভা নির্বাচন।

Advertisement

ভোটের (West Bengal Assembly Election) বাদ্যি বাজতেই নির্বাচনের মিটিং, মিছিলে দলের কর্মী, সমর্থকদের ভিড় বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন ধরনের বাজনা ভাড়া করছে। যার সুবাদে মলমাসের নিরানন্দ কাটিয়ে এখন রানিনগরের এক ব্যান্ড মালিক তাপস মণ্ডল জানান, "সারা বছরে কয়েকটা বিয়ে আর ওই পুজো, বিসর্জনের সময়ের ছাড়া ভাড়া থাকে না। তবে এবার এই মলমাসে নির্বাচন উপলক্ষ্যে রীতিমতো 'সোনার সময়' কাটাচ্ছেন ব্যান্ডপার্টি ও তাসা ওয়ালারা। যাঁরা এতদিন বসে বসে তাস পেটাচ্ছিলেন, বাদ্য যন্ত্রের ধুলো জমতে শুরু করেছিল, নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়তেই সেই তাঁদের হাতেই এখন লেগেছে কাজের জোয়ার। গ্রাম হোক অথবা শহর, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মিছিলেই চাই এখন ঢাকঢোল, ট্রাম্পেট আর ঝমঝমে ব্যান্ড। ফলে এখন জমজমাট পরিস্থিতি ব্যান্ডওয়ালাদের। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া ভাড়ায় ভালোই উপার্জন হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, "নির্বাচন এলে ওই মাসটা বেশ ভালোই কাটে। সে বিধানসভার নির্বাচন যেমন, তেমনই লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও।”

ইসলামপুরের আরেক ব্যান্ডওয়ালা বাপন মণ্ডল জানান, "লোকসভা নির্বাচনে বারোটা বায়না পেছিলাম। আর ভোটের (West Bengal Assembly Election) প্রচারে ব্যান্ডপার্টির কর্মীদের ব্যস্ততা। এবার নির্বাচনী প্রচারের সাতদিন বাকি থাকতেই ১৪টা ভাড়া হয়ে গিয়েছে। সামনের কয়েকদিনও বায়না ধরা আছে।" ব্যান্ডওয়ালের কথায় নির্বাচন উপলক্ষ্যে ব্যান্ড ও তাসার ভাড়াও যেন ওই উৎসবের মতো হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের প্রচারের মাসে ১২ থেকে ১৫ টা ভাড়া পাওয়া যায়ই। কারও কারও তার বেশিও হয়।

জানা গিয়েছে, এবার এক একটা ব্যান্ডকে দিনে একাধিক মিছিলেও বাজনা বাজাতে হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক দলের হয়ে জনসংযোগ মিছিলে যাচ্ছে, তো বিকেলে আবার অন্যদলের হয়ে জনসভা, মিছিলে বাজনায় সুর তুলতে হচ্ছে। ফলে মাসের শেষে আয়ের খাতাতেও জমছে অতিরিক্ত মুনাফা। তাঁরা আরও জানান, ব্যান্ড ও তাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে এবার ডান, বাম সব পক্ষেরই তাগিদ আছে। তবে শাসক দলের ভাড়া তুলনামুলক ভাবে বেশি হয়েছে।

চরের এক ব্যান্ডশিল্পীর কথায়, "মলমাসে আমরা প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়ি। বলা যায় 'নো এন্ট্রি' অবস্থা, হয় চৈত্রমাসে। আর এবার সেই ভোটের সুবাদে একেবারে 'ফুল অন ডিমান্ড'।" ভোটের হাওয়ায় ব্যান্ডপার্টি ওয়ালাদের কাছে একেবারে পৌষমাস। সুর, তাল আর রাজনীতির মেলবন্ধনে এখন তাঁদের দিন কাটছে বেশ ভালোই!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement