বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) পারদ চড়াতে আবারও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পা রাখছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। শনিবার রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— তিন জেলায় হেভিওয়েট প্রচারে ঝড় তুলতে চলেছেন বিজেপির এই ‘পোস্টার বয়’। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া পর্যন্ত ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁর হাতে। মূলত পদ্ম শিবিরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনমত গঠন করতেই যোগীর এই ঝটিকা সফর।
শনিবার দুপুরে তাঁর প্রথম গন্তব্য কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা। সেখানে ১২টা নাগাদ দলীয় প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের সমর্থনে জনসভা করবেন তিনি। সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় গত কয়েক বছরে বিজেপির দাপট বেড়েছে। সেই ভিতকে আরও মজবুত করতে যোগীর এই সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এরপর হেলিকপ্টারে তিনি পৌঁছে যাবেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে সেখানে নরেশচন্দ্র রায়ের সমর্থনে গর্জে উঠবেন যোগী। উত্তরবঙ্গে গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অভাবনীয় ফল করেছিল। সেই গড় ধরে রাখাই এখন গেরুয়া শিবিরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিকেলের দিকে উত্তরবঙ্গ থেকে সোজা জঙ্গলমহলে উড়ে আসবেন যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। বিকেল সোয়া চারটে নাগাদ বাঁকুড়ায় পৌঁছবেন তিনি। সেখানে বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রি শেখর দানার সমর্থনে একটি মেগা রোড-শো করার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে, জঙ্গলমহলের ভোট ব্যাংক দখলে রাখতে রোড-শোর মাধ্যমে শক্তির আস্ফালন ঘটাতে চাইছে বিজেপি। বাঁকুড়ার এই রোড-শো ঘিরে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, যোগী আদিত্যনাথের সভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে উজ্জীবিত হন নিচুতলার কর্মীরা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার জন্য সকাল থেকেই সভায় মানুষের ঢল নেমেছে আগেও। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করছেন সকলে। এই ভিড়কে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে মুরলিধর সেন লেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ঘনঘন সফর আদতে বাংলার নির্বাচনকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে শনিবারের এই ত্রিমুখী সফর যে বঙ্গ রাজনীতিতে বাড়তি উত্তাপ যোগ করবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এক দিকে উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক জমি রক্ষা, আর অন্য দিকে জঙ্গলমহলে শক্তি প্রদর্শন— এই দুই লক্ষ্যেই শনিবার ময়দানে নামছেন যোগী।
