Advertisement
ডালমিয়ার হাত ধরে প্রবেশ, এই দিনেই প্রথম টেস্ট জেতে বাংলাদেশ
টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্যের হার মাত্র ১৬.০৩ শতাংশ।
আজ থেকে দুই দশক আগে ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের টাইগাররা। সেটা ছিল তাদের ৩৫তম টেস্ট। যদিও পরের জয় পেতে লেগে গিয়েছিল চার বছর। এখনও পর্যন্ত ১৫৬টি টেস্টে মাত্র ২৫টিতেই জয় এসেছে। সাফল্যের হার মাত্র ১৬.০৩ শতাংশ। তবুও প্রথম জয়ের সেই সোনালি মুহূর্ত আজও অমলিন।
গত শতকের শেষদিকে প্রবল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের টেস্ট স্টেটাস পাওয়ার দাবি। আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ায় তারা পেয়ে গিয়েছিল ওয়ানডে স্টেটাস। সেবারের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানকেও ৬২ রানে পরাভূত করেছিল বাংলাদেশে। দ্বিতীয় জয়টি ‘ঐতিহাসিক’। আর সেই জয়ের সুবাদেই বাংলাদেশের টেস্ট খেলার দাবিটি জোরাল হতে শুরু করেছিল।
একথা বলাই যায়, কিংবদন্তি ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়া না থাকলে অত সহজে বাংলাদেশের টেস্ট খেলা হত না। কাজটা সহজ ছিল না। বাধ সেধেছিল ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সেই সময় বিশ্বক্রিকেটে টেস্ট খেলিয়ে দেশের সংখ্যা ৯। নিয়ম ছিল অন্তত ৬টি দেশের সমর্থন পেলে তবেই অন্য কোনও দেশকে টেস্ট খেলিয়ে দেশের তকমা দেওয়া যাবে। ভারত বাদে বাকি ৫টি দেশ পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবোয়ের সমর্থনই সেদিন জোগাড় করতে সমর্থ হন ডালমিয়া। টেস্ট খেলার অধিকার পায় বাংলাদেশ।
২০০০ সালের ১০ নভেম্বর। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে নামল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন নইমুর রহমান। ভারতের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দুই দেশের দুই বঙ্গভাষী অধিনায়ককে টসের জন্য একসঙ্গে দাঁড়াতে দেখাটা বাঙালি হিসেবে ছিল এক গর্বের মুহূর্ত।
তবে টেস্টের দরজা খুলে গেলেও টেস্ট জয়ের সরণি রইল অধরা। সেজন্য অপেক্ষা করতে হল চার বছরেরও বেশি সময়। অবশেষে ২০০৫ সালে এল সেই মুহূর্ত। ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে মহম্মদ রফিককে।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৮৮ রান। হাবিবুল বাশার করেন ৯৪। রাজিন সালেহ করে যান ৮৯। এছাড়াও অর্ধশতরান পেয়েছিলেন মহম্মদ রফিক (৬৯) এবং নাফিস ইকবাল (৫৬)। ছবিতে দেখা যাচ্ছে মারমুখী রফিককে।
জিম্বাবোয়ে প্রথম ইনিংসে তোলে ৩১২। মাত্র ১৫২ রানেই তারা হারিয়েছিল ৬ উইকেট। অধিনায়ক তাদেন্দা তাইবু (৯২), চিগুমবুরা (৭১) লম্বা পার্টনারশিপ গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ব্যাট হাতে অর্ধশতরান করার পর বল হাতেও পাঁচ উইকেট পান রফিক।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২০৪ রান রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয়। এই ইনিংসে একমাত্র অর্ধশতরান করেন হাবিবুল বাশার (৫৫)। দুই ইনিংসেই অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। এধিকে চিগুমবুরা ব্যাটের পর বল হাতেও চমকে দেন। তুলে নেন পাঁচ উইকেট। ছবিতে দেখা যাচ্ছে আউট হয়ে হতাশ হয়ে উইকেটের দিকে তাকিয়ে থাকা তাইবুকে।
৩৮১ রানে লক্ষ্যে নামে জিম্বাবোয়ে। কিন্তু শুরু থেকেই তাদের ব্যাটিং অর্ডারকে ভাঙতে শুরু করে পদ্মাপারের দেশ। ২ রানেই তুলে নেয় জোড়া উইকেট! ছবিতে ব্যাট হাতে রফিক।
Published By: Biswadip DeyPosted: 03:28 PM Jan 10, 2026Updated: 03:32 PM Jan 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
