Advertisement
আট যুদ্ধ থামানোর দাবি করেন, একবছরে ৮ দেশে হামলা চালিয়েছেন 'শান্তিদূত' ট্রাম্প
প্রতিটি হামলার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার আর্থিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ। আমেরিকার একপেশে পরমাণু চুক্তির সামনে মাথানত না করায় ট্রাম্পের কোপে পড়তে হয়েছে ইরানকে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে রয়েছে তেলের অঙ্ক।
নিজেকে শান্তির দূত বলে ঘোষণা করে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর যুক্তি ছিল বিশ্বজুড়ে ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছেন তিনি। তবে বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে গত একবছরে বিশ্বের ৮টি দেশে হামলা চালিয়েছেন খোদ ট্রাম্প। যার শেষতম নিদর্শন ইরানে মার্কিন সেনার হামলা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক গত একবছরে আগ্রাসী আমেরিকার কোপে পড়েছে যে সব দেশ।
গত বছরের মার্চ মাসে আমেরিকার কোপে পড়েছিল ইরাক। দেশটির আল-আনওয়ার প্রদেশে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছিল আমেরিকা। সেই হামলায় আইএসআইএস সংগঠনের এক হাই প্রোফাইল কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, আইএসআইএস-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড আবদুল্লা মাল্লি মুসলি আল-রিফাই ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকা হামলা চালিয়েছিল সিরিয়ায়। আইএসআইএস-এরই সংগঠন আইএসআইএল ছিল আমেরিকার লক্ষ্যবস্তু। পালমিরায় জঙ্গি হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক আধিকারিকের মৃত্যুর বদলা নিতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেনা। হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার দিকে যদি কেউ চোখ তুলে তাকায়, তবে সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন নিরাপদ নয়।
২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইয়েমেনে হাউথি বিদ্রোহীরা ছিল আমেরিকার লক্ষ্যবস্তু। এই সময়কালের মধ্যে হাউথির ঘাঁটি লক্ষ্য করে লাগাতার নৌ ও বিমান হামলা চালানো হয় ট্রাম্পের নির্দেশে। গাজা যুদ্ধ চলাকালীন ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছিল হাউথিরা। লোহিত সাগরে অসংখ্য জাহাজ ছিল তাদের নিশানায়। এরই পালটা হাউথিদের দুরমুশ করে আমেরিকা।
তালিকায় চতুর্থ নম্বরে রয়েছে আফ্রিকার সোমালিয়া। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর সোমালিয়ায় নিজেদের সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এখানে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেখানকার সশস্ত্র সংগঠন আল-শাবাব ও আইএসআইএল (ISIS)কে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে আমেরিকা। ব্যাপক ভাবে বেড়েছে এই দেশে মার্কিন সেনার এয়ারস্ট্রাইক।
আমেরিকার কোপ থেকে রেহাই পায়নি আফ্রিকার আর এক দেশ নাইজেরিয়া। শুরুতে এখানে হামলা চালানোর পাশাপাশি সেখানকার সেনাকে প্রশিক্ষণ দিতে ১০০ মার্কিন সেনাকে নিযুক্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের অভিযোগ নাইজেরিয়ার সরকার সেখানে থাকা খ্রিস্টান হত্যা রুখতে কোনও রকম পদক্ষেপ করছে না। এখানকার মুসলিম গোষ্ঠী বেছে বেছে খ্রিস্টানদের হত্যা করছে। এমনটা চলতে থাকলে নাইজেরিয়ায় বিমান হামলা চালাবে আমেরিকা।
মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে লাতিন আমেরিকায় অসংখ্য জাহাজ ও ট্রলারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌসেনা। রিপোর্ট বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে আসা অসংখ্য ট্রলারে চলেছে হামলা। রিপোর্ট বলছে, অন্তত ৪৫টি হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। যাতে মৃত্যু হয়েছে ১৫১ জনের।
ওই একইভাবে মাদকের অজুহাতে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় মার্কিন সেনা। নিখুঁত সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তাঁদের বেডরুম থেকে অপহরণ করে নিয়ে আসে সেনা। বকলমে দেশটির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। সেখানকার যাবতীয় খনিজ তেলের নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে।
তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ইরান। দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলার পর গত শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। ভয়ংকর সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও তাঁর একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। পালটা জবাবে ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরানও। ভয়াবহ আকার নিয়েছে দুই দেশের যুদ্ধ।
তবে কূটনৈতিক মহলের দাবি, এতগুলি দেশে হামলা চললেও প্রতিটি হামলার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার আর্থিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ। আমেরিকার একপেশে পরমাণু চুক্তির সামনে মাথানত না করায় ট্রাম্পের কোপে পড়তে হয়েছে ইরানকে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে রয়েছে তেলের অঙ্ক। পাশাপাশি কোথাও শুধুই প্রতিহিংসা, তো কোথাও খনিজের অধিকার-সহ মার্কিন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:16 PM Mar 01, 2026Updated: 07:49 PM Mar 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
