Advertisement
টি-২০ বিশ্বকাপে চাপ, ফুটবল বিশ্বকাপে অনিশ্চয়তা, খেলোয়াড়দের প্রাণ সংশয়! যুদ্ধে বিধ্বস্ত খেলার মাঠ
ক্রীড়াজগতে স্থায়ী ক্ষতি করে যাবে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ।
আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে উত্তাল বিশ্বের একাধিক দেশ। আমেরিকার ভূমিকাতে ক্ষোভ জমছে বিশ্বের বহু দেশের। এই মেগা যুদ্ধের উত্তাপ এবার খেলার মাঠে।
ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, হেন কোনও খেলা নেই, যা এই যুদ্ধের জেরে প্রভাবিত হয়নি। সবচেয়ে চাপের বিষয় হল বহু ক্রীড়াবিদের প্রাণ নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন পিভি সিন্ধু, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো মহাতারকারা। সব মিলিয়ে ক্রীড়াজগতে স্থায়ী ক্ষতি করে দিতে পারে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ।
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের মতো আমিরশাহীও পুড়ছে যুদ্ধের আগুনে। যার জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন ক্রিকেট বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। আসলে ভারত থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বহু বিমানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে কাজ করে দুবাই। সেই দুবাইয়েই এই মুহূর্তে পরিষেবা বন্ধ রেখেছে দেশের প্রথম সারির বিমানসংস্থাগুলি।
আকাশপথে যাতায়াতে সমস্যায় ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্বে থাকা কর্মী, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মী এবং বিভিন্ন দেশের বোর্ডের আধিকারিকরা। যদিও আইসিসি জানিয়েছে, তাঁরা বিকল্প যাতায়াতের বন্দোবস্ত করছে। তাতেও বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্তদের ভোগান্তি কমছে না। তাছাড়া আইসিসির সদর দপ্তর দুবাইয়ে। সেই অফিস চালানোও এখন সংশয়ে।
এ তো গেল পরোক্ষ ব্যাপার। যুদ্ধের প্রভাব সরাসরিই ক্রিকেটবিশ্বে পড়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আমিরশাহীতে ইংল্যান্ড এ দল ও পাকিস্তান এ দলের ম্যাচ বাতিল হয়েছে। ইংল্যান্ডের দলের সঙ্গে গিয়ে আটকে জনি বেয়ারস্টো, ফ্লিনটফদের মতো তারকারা। আগামী ১৩ মার্চ থেকে আমিরশাহীতেই আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলার কথা শ্রীলঙ্কার। সেই সিরিজেও এখন ঘোরতর অনিশ্চয়তা।
ক্রিকেটের থেকে অবশ্য যুদ্ধের অনেক বেশি প্রভাব পড়ছে ফুটবলে। ইতিমধ্যেই এএফসি একধিক প্রতিযোগিতা স্থগিত করে দিয়েছে। যুদ্ধের জেরে বন্ধ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট এবং এফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু। এশিয়ার ফুটবল সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এখনই এই টুর্নামেন্টগুলি শুরুর সম্ভাবনা নেই।
এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-কে নিয়েও উদ্বেগে তাঁর ভক্তকূল। সৌদির রাজধানী রিয়াধে একের পর এক বোমা পড়ার আওয়াজ শোনা গিয়েছে। সূত্রের খবর, রিয়াধেই আটকে রয়েছেন রোনাল্ডো এবং আল নাসেরের অন্যান্য ফুটবলাররা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আল নাসেরের আসন্ন বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাতিল হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে ফুটবল বিশ্বকাপ। মনে করা হচ্ছে, আমেরিকার হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেবে।
এর আগে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল ফ্রান্স-জার্মানি। সঙ্গে আরও একধিক ইউরোপীয় দেশ হুমকি দিয়ে রেখেছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে বিশ্বকাপে যাবে না তাঁরা। ফলে একের পর এক বড় দেশ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেওয়ায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:15 PM Mar 01, 2026Updated: 05:15 PM Mar 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
