Advertisement
লাস্যময়ীদের সঙ্গে যৌনতার সুযোগ, গর্ভবতী করলেই ১০ লক্ষ! 'অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট সার্ভিস' আসলে কী?
সোশাল মিডিয়ায় এই বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছে?
অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট সার্ভিস। সোশাল মিডিয়ায় আড়ালে আবডালে বিজ্ঞাপন। নিষিদ্ধ সাইটে চোখ রাখলেই রেজিস্ট্রেশন করানোর প্রলোভন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করার পর কী? বিজ্ঞাপনে যা আছে, সত্যিই কি বাস্তবে তা মিলল? নাকি পুরোটাই বিজ্ঞাপনী চমক। আড়ালে কাজ করল কোনও বিরাট চক্র?
সোশাল মিডিয়ায়, ট্রেনে বাসে, সুলভ শৌচাগারে বিজ্ঞাপন। তাতে বলা হচ্ছে নাম রেজিস্ট্রার করলেই মিলবে লাস্যময়ীদের সঙ্গে যৌনতার সুযোগ। মূল লক্ষ তাঁদের গর্ভবতী করা। সেটা করতে পারলেই ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার। না করতে পারলেও কোনও সমস্যা নেই। তাতেও বোনাস হিসাবে মিলবে পাঁচ লক্ষ।
ভারতের মতো দেশে অবাধ যৌনতার চল নেই, যৌন অবদমন যেখানে পুরুষদের মধ্যে বড় সমস্যা। সেখানে কোনওরকম কাঠখড় না পুড়িয়েই লাস্যময়ীদের সঙ্গে যৌনতার সুযোগ। তাও আবার বোনাসও মেলার সম্ভাবনা। শয়ে শয়ে পুরুষ রেজিস্ট্রেশন শুরু করে অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট সার্ভিস নামের ওই 'সংস্থা'য়।
তবে একটা ছোট্ট সমস্যা এখানে ছিল। রেজিস্ট্রেশনের জন্য সামান্য কিছু অর্থ দিতে হত। ওই সংস্থার তরফে বলা হয়েছিল, এটা আসলে রেজিস্ট্রেশন ফি। বলা হয়েছিল, ওই রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হচ্ছে হোটেলের ফি ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য।
পুরুষদের আগ্রহ বাড়াতে রেজিস্ট্রেশনের আগেই তাঁদের পাঠানো হত ওই লাস্যময়ী মডেলদের ছবি। যারা কিনা সম্ভাব্য 'কাস্টমার।' বলা হত, কাস্টমাররা প্রোফাইল পছন্দ করলেই মিলবে কাজ।
কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের পর দিনের পর দিন কেটে গেলেও 'কাজ' পাননি কেউ। আসলে এই 'অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট সার্ভিস' পুরোটাই একটা প্রতারণা চক্র। যারা কিনা যৌনতার ফাঁদ পেতে বিহারের নওয়াদা জেলায় বড়সড় প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল।
সোশাল মিডিয়ায় 'অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট সার্ভিস' নামের বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ যুবকদের ফাঁসানোর ছক কষেছিল কয়েকজন প্রতারক। টার্গেট ছিলেন মুলত অবিবাহিত যুবকরা।
সমস্যা হল প্রতারিত হচ্ছেন, এটা বুঝতেই অনেকটা সময় লেগে যায় প্রতারিতদের। আরও সমস্যার হল প্রতারিত হওয়ার পরও কেউ পুলিশের কাছে যেতে পারেছেন না বা কাউকে বলতে পারছেন না স্রেফ লোকলজ্জার ভয়ে। ফলে দীর্ঘদিন কেউ অভিযোগ দায়ের না করায় পুলিশেরও অগোচরে ছিল বিষয়টা।
ওই প্রতারণা চক্র অবশ্য শুধু যৌনতার ফাঁদ পেতে নয়। আরও নানাভাবে টাকা তোলার চেষ্টা করেছিল প্রতারকরা। কাউকে অনায়াসে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে। কাউকে বা সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার নামে একই রকমভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হত।
Published By: Subhajit MandalPosted: 03:07 PM Jan 10, 2026Updated: 03:44 PM Jan 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
