Advertisement
ইতিহাসের পথে পিয়ালি বসাক! শীতেই কঠিন মাকালু অভিযানের পথে বঙ্গকন্যা, দেখুন ছবি
হুগলির পর্বতারোহী পিয়ালির ঝুলিতে ইতিমধ্যে বহু রেকর্ড রয়েছে।
জীবনে চড়াই-উতরাইয়ের পথ যাঁরা বেছে নেন, তাঁদের কাছে ২৪ ঘণ্টাই অ্যাডভেঞ্চারের। নিত্যদিনের রুটিন থেকে সামান্য বিরতি নিয়ে ফেললেই ফের দুর্গমের অমোঘ টান যেন প্রবল হয়ে ওঠে। তাতেই আবার ঘরের বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতির মুখোমুখি হন সেসব দুঃসাহসী মানুষজন। তেমনই একজন পিয়ালি বসাক, বাংলার পর্বতারোহী কন্যা। ইতিমধ্যে বহু পর্বতশৃঙ্গ জয়ের অভিজ্ঞতা, কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এবার হাড়কাঁপানো শীতেই তিনি বেরিয়ে পড়লেন পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম শৃঙ্গ মাকালু অভিযানে। মাকালু জয় করলে নয়া ইতিহাস গড়বেন পিয়ালি।
হিমালয় পর্বতশ্রেণির একটি শৃঙ্গের নাম মাকালু। নেপাল-চিন সীমান্তের এই শৃঙ্গের উচ্চতা ৮৪৮৫ মিটার অর্থাৎ এভারেস্টের চেয়ে খানিকটা কম। কিন্তু আরোহণ পথ এভারেস্টের চেয়ে ঢের কঠিন। গোটা পথ জুড়ে জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট বরফচূড়া, রুক্ষ্ম পাথুরে জমি, সুগভীর গিরিখাত।
শীতকালীন মাকালু অভিযান শুধু কঠিনই নয়, রীতিমতো দুরূহ। কিন্তু সেটাই আসল আকর্ষণ পর্বতারোহীদের কাছে। বিশেষত বঙ্গকন্যা পিয়ালি বসাকের কাছে তো বটেই। তাই প্রবল শীত উপেক্ষা করেই তিনি বেরিয়ে পড়েছেন মাকালু অভিযানে।
পিয়ালির এই অভিযান সফল হলে তৈরি হবে নয়া ইতিহাস। পৃথিবীর মধ্যে মহিলা হিসেবে শীতকালীন পর্বতারোহণে তিনিই গড়বেন দৃষ্টান্ত। সারা পৃথিবীতে বহু বিখ্যাত পর্বতারোহী আছেন, যাঁরা এই কঠিন পরিস্থিতিতে মাকালুর পথে আরোহণ করতে পারেননি।
মাকালু বেস ক্যাম্পে পৌঁছনো গ্রীষ্মকালেও অনেকটাই কঠিন। পর্যটকদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। দু'জন রাঁধুনি নিয়ে পিয়ালিরা মোট সাতজন মাকালু অভিযানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শানু শেরপার তত্ত্বাবধানে এই অভিযান করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে মাকালু অভিযানে চারটি ক্যাম্প করে অভিযান শেষ হয়। জানা গিয়েছে, পিয়ালি বসাকদের বেস ক্যাম্প ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় রয়েছে। এই অভিযানে ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে।
ঠিক কেমন পরিবেশ এখানে? বেস ক্যাম্পের কাছে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নেমেছে। যত উপরে ওঠা যায়, তত তাপমাত্রা আরও কমবে। অক্সিজেনের ঘাটতি হবে।
পিয়ালির কথায়, ''আমাদের প্রত্যেকেরই ঠান্ডায় নাক-গলা জ্বলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে মাকালু পর্বত অভিযানের রুট খোঁজার কাজ চলবে। সুইজারল্যান্ড থেকে আমরা আবহাওয়ার রিপোর্ট নিচ্ছি। দশদিন মতো আবহাওয়া ভালো থাকলেই আমরা সামিট শেষ করব।" তিনি আরও জানান, বরফ এতটাই শক্ত যে লোহার কাঁটাও আটকায় না। একটু অসাবধান হলেই বরফে পিছলে সোজা খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 04:19 PM Jan 08, 2026Updated: 04:20 PM Jan 08, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
