Advertisement
ভারতের এই মন্দিরগুলোতে পুরুষদের প্রবেশ আজও নিষিদ্ধ, কেন এমন অদ্ভুত রীতি?
ভারতবর্ষ এক প্রাচীন তীর্থস্থান। দেশের আনাচে-কানাচে রয়েছে বিস্ময়কর সব দেবালয়। রয়েছে তেত্রিশ কোটি দেবতার নিজস্ব আবাস। তবে এই সব মন্দিরের রয়েছে বহুবিধ আচার, নিয়ম, আদব-কায়দা। কোথাও পুজোর জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে সাজপোশাক, কোথাও বা রয়েছে আরাধনার বিশেষ সময়কাল। তবে, শুনলে অবাক হবেন আপনিও। এমন কিছু মন্দির এই দেশে রয়েছে, যেখানে পুরুষ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কী, বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন, জেনে নিই।
ভারতবর্ষ এক প্রাচীন তীর্থস্থান। দেশের আনাচে-কানাচে রয়েছে বিস্ময়কর সব দেবালয়। রয়েছে তেত্রিশ কোটি দেবতার নিজস্ব আবাস। তবে এই সব মন্দিরের রয়েছে বহুবিধ আচার, নিয়ম, আদব-কায়দা। কোথাও পুজোর জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে সাজপোশাক, কোথাও বা রয়েছে আরাধনার বিশেষ সময়কাল। তবে, শুনলে অবাক হবেন আপনিও। এমন কিছু মন্দির এই দেশে রয়েছে, যেখানে পুরুষ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কী, বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন, জেনে নিই।
আট্টুকাল ভগবতী মন্দির, কেরল: কেরলের তিরুবনন্তপুরমের এই মন্দিরে কেবল মহিলারাই পুজোর অধিকারী। প্রতি বছর এখানে ‘আট্টুকাল পঙ্গল’ উৎসব পালিত হয়। গিনেস বুক অফ রেকর্ডসে এই মন্দিরের নাম আছে। কয়েক লক্ষ মহিলা একযোগে দেবী পার্বতীর আরাধনা করেন। এই বিশেষ সময়ে পুরুষদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ক্কুলাথুকাভু মন্দির, কেরল: এই মন্দিরে মা দুর্গার আরাধনা হয়। প্রতি বছর ডিসেম্বরে এখানে ‘নারী পূজা’ পালিত হয়। সেই বিশেষ দিনে পুরুষ ভক্তদের প্রবেশ বারণ। পুরোহিতরা মহিলাদের পা ধুইয়ে পুজো করেন। নারী শক্তির সম্মানে এই মন্দির অনন্য। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এখানে আসেন।
চেঙ্গানুর ভগবতী মন্দির, কেরল: এই মন্দিরের প্রথা বেশ অদ্ভুত এবং প্রাচীন। এখানে দেবীর ঋতুস্রাব পালিত হয়। সেই বিশেষ দিনগুলিতে পুরুষদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকে। মহিলারা মন্দিরের যাবতীয় আচার পালন করেন। এটি নারী শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে পবিত্রতার সম্মান দেওয়ার একটি বড় নিদর্শন।
কামাখ্যা মন্দির, অসম: গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচী উৎসবের সময় পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ। তিন দিন মন্দির বন্ধ থাকে। কথিত আছে, দেবী তখন ঋতুমতী হন। শুধুমাত্র মহিলা সন্ন্যাসী এবং সেবায়েতরা সেই সময়ে মন্দিরে থাকতে পারেন। এটি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সতীপীঠ এবং নারীশক্তির কেন্দ্র।
ভগবতী আম্মান মন্দির, কন্যাকুমারী: কন্যাকুমারীর এই মন্দিরে দেবী কুমারী রূপে বিরাজমান। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, পার্বতী শিবকে পাওয়ার জন্য এখানে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে কেবল সন্ন্যাসিনী এবং মহিলারাই প্রবেশ করতে পারেন। বিবাহিত পুরুষদের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে এখানে অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলা হয়।
ব্রহ্মা মন্দির, পুষ্কর: রাজস্থানের পুষ্করের এই মন্দিরটি অত্যন্ত প্রাচীন। বিবাহিত পুরুষদের গর্ভগৃহে প্রবেশ নিষিদ্ধ। কার্তিক পূর্ণিমার সময় যখন বিশেষ আচার পালন করা হয়, তখন কোনও বিবাহিত পুরুষ সেখানে যেতে পারেন না। শুধুমাত্র মহিলারাই আরাধনা সম্পন্ন করেন। এটি ব্রহ্মার প্রধান মন্দির হিসেবে পরিচিত।
মাতা মন্দির, মুজাফফরপুর: বিহারের এই মন্দিরে পুজো হয় অদ্ভূত নিয়মে। এখানে পুজোর আচার কেবল মহিলারা পালন করেন। পুরুষদের প্রবেশ এখানে সম্পূর্ণ বারণ। মহিলারা মিলে ভজন-কীর্তন করেন এবং দেবীকে ভোগ নিবেদন করেন। এই প্রথা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত এবং ভক্তিপূর্ণ।
লিঙ্গ ভৈরবী, কোয়েম্বাটোর: তামিলনাড়ুর এই মন্দিরে ইশা ফাউন্ডেশনের অধীনে পূজা হয়। এখানে নারী শক্তিকে ভীষণ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্দিরের প্রধান আচারগুলি পরিচালনা করেন মহিলারা। বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানের সময় পুরুষদের ভেতরে যাওয়া নিষিদ্ধ থাকে। এখানকার সজ্জা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
সাবিত্রী মাতা মন্দির, পুষ্কর: রত্নগিরি পাহাড়ের চূড়ায় এই মন্দিরটি অবস্থিত। এটি ব্রহ্মার স্ত্রী সাবিত্রীর মন্দির। ব্রহ্মার অন্য বিবাহের কারণে সাবিত্রী অভিশাপ দিয়েছিলেন। সেই থেকেই এখানে মহিলারা বিশেষ প্রাধান্য পান। পুরুষদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এখানে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে কড়াকড়ি থাকে। পাহাড় থেকে পুষ্করের দৃশ্য অপূর্ব লাগে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 05:31 PM May 14, 2026Updated: 05:31 PM May 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
